৭২ ঘন্টায় লক্ষ লক্ষ ইউজার Signal ও Telegram এ, Facebook কে তলব করতে পারে সংসদীয় প্যানেল

parl-panel-will-summon-facebook-for-privacy-policy-huge-downloads-telegram-signal

আগামী ফেব্রুয়ারি মাস থেকে লাগু হতে চলেছে হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp)-এর নতুন প্রাইভেসি পলিসি। জল্পনা চলছে যে, এই পরিবর্তিত নীতিমালার মাধ্যমে আসন্ন দিনগুলিতে ইউজারদের ব্যক্তিগত জীবনে উঁকি দিতে পারে ফেসবুকের মালিকানাধীন সংস্থাটি। আর এই আশঙ্কা থেকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ বিকল্প অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করতে শুরু করছেন। ফলে হোয়াটসঅ্যাপের জনপ্রিয়তায় টান পড়ায়, আখেরে লাভ হয়েছে সিগন্যাল (Signal) এবং টেলিগ্রাম (Telegram) অ্যাপ্লিকেশনের। এতদিন অবধি এই অ্যাপগুলি ‘দুয়োরানি’র মত উপলব্ধ থাকলেও, হালফিল সময়ে মানুষ দলে দলে এই অ্যাপ দুটির সাথে যুক্ত হচ্ছেন। স্বাভাবিকভাবেই, বিগত দু-তিন দিনে (৭২ ঘণ্টা) লক্ষ লক্ষ ইউজারবেস বাড়াতে সক্ষম হয়েছে সিগন্যাল এবং টেলিগ্রাম উভয়েই।

Signal অ্যাপটির কথায় প্রথমে আসা যাক। টেসলা কোম্পানির প্রধান এলন মাস্ক একটি টুইট পোস্টে সিগন্যাল ব্যবহার করার কথা বলার পর থেকেই হুড়মুড়িয়ে এই অ্যাপটি ডাউনলোড করতে শুরু করেন একাংশ মানুষ। রিপোর্ট অনুযায়ী, সাম্প্রতিক দিনগুলিতে, হোয়াটসঅ্যাপের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে রোজ এক মিলিয়নের কাছাকাছি মানুষ এই মেসেজিং অ্যাপটি ডাউনলোড করছেন। গত রবিবারেই এটি ৮১০,০০০-এর বেশি বার ডাউনলোড হয়েছিল বলে জানা গিয়েছিল।

অনুরূপভাবে, Telegram-এও প্রচুর সংখ্যক নতুন ইউজারের আগমন ঘটেছে। এমনিতেই এই অ্যাপটি, হোয়াটসঅ্যাপকে টেক্কা দিতে বেশ সচেষ্ট; কিন্তু গত ৭২ ঘন্টার মধ্যে এই অ্যাপটিকে প্রায় ২৫ মিলিয়ন মানুষ ডাউনলোড করেছেন। দেখা গেছে, এই সমস্ত ইউজারের মধ্যে ৩৮ শতাংশই এশিয়ায় বসবাস করেন। সেক্ষেত্রে ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা এবং মেনা অঞ্চলে যথাক্রমে ২৭%, ২১% এবং ৮% মানুষ টেলিগ্রামে সুই্যচ করেছেন।

অন্যদিকে, হোয়াটসঅ্যাপ এখনও দাবি করছে যে তারা ইউজারদের ডেটা সুরক্ষা বা গোপনীয়তার মান বজায় রাখতে সর্বদা সচেষ্ট। সংস্থাটি কোনো মতেই ইউজারের ব্যক্তিগত ডেটা ট্র্যাক করেনা এবং সেগুলি তৃতীয় পক্ষের সাথে শেয়ার করে না। কিন্তু তাতেও বিতর্ক কমছে না! ইতিমধ্যেই ভারতের ট্রেডার্স বডি CAIT, এদেশে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যান করার অনুরোধ জানিয়ে সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছে। শোনা যাচ্ছে, নতুন প্রাইভেসি পলিসি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে WhatsApp তথা Facebook কর্তৃপক্ষকে ডেকে পাঠাতে পারে কেন্দ্র সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত সংসদীয় প্যানেল। তাই আগামী দিনে হোয়াটসঅ্যাপের জন্য কী অপেক্ষা করছে, তা নির্ধারণ করবে সময়ই!