পাবজি মোবাইল ব্যানের জের, আত্মহত্যা করলো ২১ বছরের প্রীতম

PUBG Ban in India 21 year old boy commits suicide

PUBG Mobile গেম খেলার নেশায় প্লেয়ারের মৃত্যু হয়েছে এমন খবর বহুবার সামনে এসেছে। কিন্তু ব্যান হওয়ার পরেও এই জনপ্রিয় গেমটি কেড়ে নিল একটি তরতাজা প্রাণ। গতসপ্তাহে ভারত সরকার PUBG Mobile সহ ১১৮টি অ্যাপ্লিকেশন নিষিদ্ধ করেছে। বাকি ১১৭টি অ্যাপ্লিকেশন নিয়ে তেমন মাথা ব্যাথা না থাকলেও, পাবজি মোবাইল ব্যান হওয়ায় বেশ হতাশ হয়েছে ভারতের তরুণ প্রজন্ম। পাবজি মোবাইল খেলতে না পেরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্লেয়ারের আত্মহত্যা করেছে এমন খবর শোনা গেছে।

এমনই একটি ঘটনা ঘটেছে আমাদের পশ্চিমবঙ্গে। চারদিন আগে অর্থাৎ গত ৪ঠা সেপ্টেম্বর, নিজের ঘরে গলায় ফাঁস লাগিয়ে নিজের প্রাণ নেয় কল্যাণী আইটিআই-এর পড়ুয়া। প্রীতম হালদার নামের ছেলেটির বয়েস মাত্র ২১ বছর। ঘটনার দিন দুপুরে প্রীতমের মা, তাকে খাওয়ার জন্য ডাকতে গিয়ে দেখেন ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। বহু ডাকাডাকিতেও ছেলের কোনো সাড়া না পেয়ে শেষে ভদ্রমহিলা প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভাঙেন এবং প্রীতমকে সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।

শোকাহত হালদার পরিবার জানিয়েছে, তাঁরা ছেলের এমন পদক্ষেপের কারণ জানেননা। তবে তারা জানিয়েছে, পাবজি মোবাইল বন্ধ হওয়ায় ছেলের মন বেশ খারাপ ছিল। হয়তো এই কারণেই সে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নদিয়া জেলার পুলিশও মনে করছ, গেম ব্যান হওয়ার অবসাদেই আত্মহত্যা করেছে প্রীতম।

অন্যদিকে, আমেদাবাদের আনন্দ জেলার একটি ১৬ বছরের ছেলেও এই গেম খেলতে না পাওয়ায় আত্মহত্যা করেছে। তবে পাবজি ব্যান হওয়ার কারণে নয়, ছেলেটির বাবা সারাক্ষণ গেম খেলার জন্য তাকে ধমক দিয়েছিলেন এবং মোবাইল ফোনটি বাজেয়াপ্ত করেছিলেন। ফলে ওই ছেলেটি, বাড়িতে রাখা কীটনাশক খেয়ে ফেলে। চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার হলেও শেষ অবধি বাঁচানো যায়নি।

তবে শুধু যে পাবজি-র কারণেই এমন পদক্ষেপ নিচ্ছে তরুণ প্রজন্ম, তা কিন্তু নয়। অনলাইন ক্লাসের চাপ সহ্য না করতে পেরে, মানসিক অবসাদের জেরে আত্মহত্যা করেছে তামিলনাড়ুর এক একাদশ শ্রেণির ছাত্র। অন্যদিকে, মোবাইল চুরি হয়ে যাওয়ায় অনলাইন পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাবে এই আশঙ্কাতে আত্মঘাতী হয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার নবম শ্রেণির ছাত্রী। করোনা পরিস্থিতিতে অনলাইন ক্লাসের জেরে মৃত্যুর ঘটনা এই প্রথম নয়। তবে যতবেশি অন্তর্জালে (Internet)-এর ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ছে, ততই তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মানসিক অবসাদ বাড়ছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই!