ওয়ানপ্লাসকে ভয় পাবে স্যামসাং এবং অ্যাপেল, জেনে নিন ১০টা কারণ

স্যামসাং কে পিছনে ফেলে ওয়ানপ্লাস হয়ে গেছে ভারতের সবচেয়ে বেশি পছন্দের অ্যান্ড্রয়েড ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন।

  

ভারতের অধিকাংশ মানুষ মিডরেঞ্জার ও হায়ার মিডরেঞ্জার ডিভাইস কিনে থাকেন।খুব কম লোকই রয়েছেন যারা প্রিমিয়াম ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন কেনেন।তাই ভারতে বিভিন্ন বড় ব্র্যান্ডের ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোনগুলি বিক্রি করা কিছুটা হলেও সমস্যার।এই ফ্ল্যাগশিপ সেগমেন্টের দুই বড় খেলোয়াড় অ্যাপেল এবং স্যামসাং। সম্প্রতি এদের সঙ্গে আরও একটি নতুন নাম যোগ হয়েছে যেটি হল ওয়ানপ্লাস। এই চিনা স্মার্টফোন ব্র্যান্ডটি বাজারে আসার সঙ্গে সঙ্গে অ্যাপেল এবং স্যামসাং কে কড়া চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। গত বছরের থেকে এবছর ওয়ানপ্লাসের ভারতে আয় অনেকটাই বেড়েছে। তাই এটি অ্যাপেল এবং স্যামসাং এর পক্ষে অবশ্যই একটি চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে।এখানে আমরা কেন ওয়ানপ্লাসকে স্যামসাং এবং অ্যাপেল ভয় পাবে তার ১০ টি কারণ নিয়ে আলোচনা করবো।

১. ওয়ানপ্লাস ব্র্যান্ডটি বর্তমানে ভারতের ফ্ল্যাগশিপ সেগমেন্টের সবচেয়ে বড় ব্র্যান্ড হয়ে উঠেছে। 2018 র দ্বিতীয় কোয়ার্টারে ওয়ানপ্লাস ব্র্যান্ডটি ভারতের ফ্ল্যাগশিপ সেগমেন্টের 40% মার্কেট শেয়ার নিয়ে তালিকার শীর্ষে উঠেছিল। তারা তাদের এই ধারাকে পরবর্তী কোয়ার্টারটিতেও অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়।

২. শেষ অর্থবর্ষে ওয়ানপ্লাস ইন্ডিয়ার রেভিনিউ অনেকটা বেড়েছে: ইকোনমিক টাইমসে প্রকাশিত একটি রিপোর্ট অনুযায়ী ওয়ানপ্লাস ইন্ডিয়ার বার্ষিক রেভিনিউ বেড়ে ১৫০ কোটি হয়েছে যা গত অর্থবর্ষে ৩৭.৯ কোটি ছিল। রিপোর্টে আরো জানানো হয়েছে যে গত অর্থবর্ষের তুলনায় ওয়ান প্লাসের লাভ ও ২ কোটির কাছাকাছি বেড়েছে।

৩. ওয়ানপ্লাস হলো প্রথম চিনা স্মার্টফোন ব্র্যান্ড যেটি আমেরিকার T-mobile এর সাথে হাত মেলালো: গত অক্টোবরে ওয়ানপ্লাস তাদের সর্বশেষ ফ্ল্যাগশিপ ফোন ওয়ানপ্লাস 6T আমেরিকায় লঞ্চ করল। এই ফোনটি তৈরি করার জন্যই ওয়ানপ্লাস আমেরিকার বৃহত্তম মোবাইল ক্যারিয়ার T-mobile এর সঙ্গে হাত মিলিয়েছে।

৪. ব্র্যান্ডের বিশ্বাস এর নিরিখে ওয়ানপ্লাস দ্বিতীয় স্থানে: IDC এর একটি রিপোর্ট অনুযায়ী ওয়ানপ্লাস ব্র্যান্ড বিশ্বাসের নিরিখে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। অর্থাৎ যারা আগে ওয়ানপ্লাস কিনেছিলেন তাদের ৩১% লোক তাদের পরবর্তী ফোন এর জন্য ওয়ানপ্লাসকেই বেছে নিয়েছেন। এখানে অ্যাপেল রয়েছে যদিও প্রথম স্থানে। অ্যাপেল ক্রেতাদের ৪৪% লোক এখনো অ্যাপেল এর উপর বিশ্বাস রেখেছেন।

৫. স্যামসাং কে পিছনে ফেলে ওয়ানপ্লাস হয়ে গেছে ভারতের সবচেয়ে বেশি পছন্দের অ্যান্ড্রয়েড ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন।

৬. ওয়ানপ্লাস ফোনগুলির সব থেকে বড় বৈশিষ্ট্য হলো কিছুটা কম দামের মধ্যে ফ্ল্যাগশিপ ফিচার ফোনে দিয়ে দেওয়া। যেখানে অ্যাপেল স্যামসাং ফ্ল্যাগশিপ এর জন্য অনেক বেশি টাকা নেয় সেখানে সেই ফিচারই ওয়ানপ্লাস অনেক কম দামের মধ্যে গ্রাহকদের দিয়ে দিচ্ছে।

৭.ওয়ানপ্লাস এর ফোনগুলি এখন অনলাইন ছাড়া অফলাইন মার্কেটে বিক্রি হওয়া শুরু হয়েছে। যেখানে অ্যাপেল এবং স্যামসাং-র সাধারণ দোকানে স্টক অনেক বেশি থাকে, সেই জায়গায় এখন ওয়ানপ্লাস থাবা বসাবে।অফলাইন মার্কেটে বিক্রি শুরু করার জন্য ওয়ানপ্লাস ক্রোমা এবং রিলায়েন্স জিওর সাথে চুক্তি করেছে।

৮. ওয়ানপ্লাস এর ফ্যান ফলোয়িং বাড়ছে: একটি সময় ছিল যখন অ্যাপেল এর ফোন রিলিজ হলে সেটিকে কেনার জন্য দোকানের বাইরে লাইন থাকতো। কিন্তু এখন ওয়ানপ্লাস এর ইভেন্টেও অনেক মানুষ আসছেন এবং দোকানের বাইরে কেনার জন্য লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকছেন।

৯. ওয়ানপ্লাস অন্যান্য ব্র্যান্ড গুলোর তুলনায় অনেক কম দামে বেশি ভ্যালু ফর মানি ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন আমাদের কাছে এনে দেয়।

১০. ওয়ানপ্লাস এর একটি নতুন ফোন রিলিজ হলে তার পুরনো ভার্সনের বিক্রি বন্ধ হয়ে যায়: ওয়ানপ্লাস প্রত্যেক ৬ মাস অন্তর একটি করে নতুন ফ্ল্যাগশিপ ফোন বের করে এবং তখনই তার পুরনো ভার্সনের বিক্রি বন্ধ হয়ে যায়। এটা তাদের একটি ব্যবসায়িক কার্যনীতি যা তাদের পক্ষেই গেছে বলা যেতে পারে।

পড়ুন : এই পাঁচ ফিচারের জন্য ওয়ানপ্লাস 6T হতে পারে সেরা প্রিমিয়াম স্মার্টফোন