ভারতে লঞ্চ হল Samsung Galaxy Watch 3 এবং Samsung Galaxy Buds Live

আগামী ২৭ আগস্ট থেকে স্যামসাং গ্যালাক্সি ওয়াচ ৩ এবং স্যামসাং গ্যালাক্সি বাডস লাইভ ইয়ারবাডসকে কেনা যাবে।

Samsung Galaxy Watch 3

গত ৫ আগস্ট দক্ষিণ কোরিয়ান কোম্পানি Samsung, তাদের Galaxy Unpacked ইভেন্টে Samsung Galaxy Watch 3 এবং Samsung Galaxy Buds Live TWS লঞ্চ করেছিল। এবার কোম্পানি এই দুই প্রোডাক্টকে ভারতে আনলো। আগামী ২৭ আগস্ট থেকে স্যামসাং গ্যালাক্সি ওয়াচ ৩ এবং স্যামসাং গ্যালাক্সি বাডস লাইভ ইয়ারবাডসকে কেনা যাবে। এদিকে এই ইভেন্টে স্যামসাং, গ্যালাক্সি নোট ২০ সিরিজকেও লঞ্চ করেছিল। এই সিরিজ আগামী ২৮ আগস্ট ভারতে আসবে। আসুন Samsung Galaxy Watch 3 এবং Samsung Galaxy Buds Live TWS এর দাম ও স্পেসিফিকেশন জেনে নিই।

Samsung Galaxy Watch 3 দাম:

এই নতুন Samsung Galaxy Watch 3 এর ৪১ মিলিমিটার সাইজ সহ ওয়াই-ফাই মডেলের দাম ২৯,৯৯০ টাকা। আবার এর 4G মডেলের দাম ৩৪,৯৯০ টাকা। অন্যদিকে গ্যালাক্সি ওয়াচ ৩ এর ৪৫ মিলিমিটার সাইজ সহ ওয়াই-ফাই মডেলের দাম ৩২,৯৯০ টাকা। আবার এর 4G মডেলের দাম ৩৮,৯৯০ টাকা। এই স্মার্টওয়াচ দুটি স্টেইনলেস স্টিল এবং টাইটানিয়াম ভ্যারিয়েন্টে পাওয়া যাবে। ৪১মিমি ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া যাবে সিলভার ও ব্রোঞ্জ কালারে। আবার ৪৫মিমি ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া যাবে সিলভার ও ব্ল্যাক কালারে।

Samsung Galaxy Buds Live দাম:

এদিকে Samsung Galaxy Buds Live এর দাম রাখা হয়েছে ১৪,৯৯০ টাকা। আপনারা এই গ্যালাক্সি বাড লাইভ ( Samsung Galaxy Buds Live ) ইয়ারবাডস পেয়ে যাবেন তিনটি কালার ভ্যারিয়েন্টে – কালো, ব্রোঞ্জ এবং সাদা। 

Samsung Galaxy Watch 3 ও Samsung Galaxy Buds Live: লভ্যতা ও প্রি-বুকিং অফার

স্যামসাং গ্যালাক্সি ওয়াচ ৩ এবং স্যামসাং গ্যালাক্সি বাডস লাইভ ইয়ারবাডস দুটি ডিভাইসকে Samsung Shop, Amazon, Flipkart ও অফলাইন স্টোর থেকে প্রিঅর্ডার করা যাবে। তবে স্যামসাং শপ ও অফলাইন স্টোর থেকে আজ থেকেই ডিভাইস দুটি প্রি-অর্ডার করা যাবে। আবার অ্যামাজন ও ফ্লিপকার্ট থেকে ২০ আগস্ট থেকে প্রি-অর্ডার করা যাবে। প্রি-অর্ডার করার শেষ তারিখ ২৬ আগস্ট।

কোম্পানির তরফে জানানো হয়েছে, স্যামসাং শপ ও অফলাইন স্টোর থেকে স্যামসাং গ্যালাক্সি ওয়াচ ৩ এর যেকোনো ভ্যারিয়েন্ট কিনলে, স্যামসাং গ্যালাক্সি বাডস লাইভ ইয়ারবাডসটি কেবল ৪,৪৯০ টাকায় কেনার সুযোগ দেওয়া হবে। আবার অ্যামাজন ও ফ্লিপকার্ট থেকে গ্যালাক্সি ওয়াচ ৩ এর ৪১ ও ৪৫ মিলিমিটার সাইজ সহ ওয়াই-ফাই মডেল কিনলে যথাক্রমে ৪,৫০০ টাকা ও ৫,০০০ টাকা ক্যাশব্যাক পাওয়া যাবে।

Samsung Galaxy Watch 3 স্পেসিফিকেশন:

প্রথমে আসা যাক বড় মডেলটিতে অর্থাৎ ৪৫ মিলিমিটারের মডেলে। এই মডেলে আপনারা ১.৪ ইঞ্চির রাউন্ড টাচস্ক্রিন ডিসপ্লে পেয়ে যাবেন যার সঙ্গে থাকছে ৩৪০ মিলি অ্যাম্পিয়ার এর ব্যাটারী। এছাড়া এই ঘড়ি তে থাকছে অ্যামোলেড ডিসপ্লে এবং কর্নিং গরিলা গ্লাস প্রটেকশন। অন্যদিকে, ছোট মডেল অর্থাৎ ৪১ মিলিমিটারের মডেলে থাকতে চলেছে ১.২ ইঞ্চির ডিসপ্লে এবং ২৪৭ মিলি অ্যাম্পিয়ার এর ব্যাটারি। এই মডেলেও আপনারা পাবেন অ্যামোলেড ডিসপ্লে এবং কর্নিং গোরিলা গ্লাস প্রটেকশন।

এই নতুন স্যামসাং গ্যালাক্সি ওয়াচ ৩ চলবে নতুন Tizen OS ৫.৫ এর ওপরে এবং এতে আপনারা পাবেন সর্বাধিক ১ জিবি র‌্যাম ও সর্বাধিক ৮ জিবি ইন্টারনাল স্টোরেজ। এছাড়া এই স্মার্টওয়াচে দেওয়া হয়েছে এক্সিনোস ৯১১০ ডুয়াল কোর ১.১৫ গিগাহার্জ চিপসেট। এই নতুন স্মার্টওয়াচ আসছে দুটি ভ্যারিয়েন্টে – প্রথমটি ব্লুটুথ এবং ওয়াই ফাই কানেকশন এবং দ্বিতীয়টি এলটিই কানেকশন। ওয়াই ফাই মডেলে আপনারা পাবেন Wifi 802.11 b/g/n এবং ব্লুটুথ ৫.০ সাপোর্ট। অন্যদিকে, LTE মডেলের সঙ্গে আসছে eSIM সাপোর্ট এবং 4G কানেক্টিভিটি অপশন। সঙ্গে আছে GPS অনবোর্ড ফিচার। এছাড়াও আপনারা স্পিকার এবং মাইকের মাধ্যমে সরাসরি আপনার স্মার্টওয়াচ এর মাধ্যমে কল করতে পারবেন।

গ্যালাক্সি ওয়াচ ৩ এর সার্কুলার ডায়ালে আপনারা পাবেন রোটেটিং বেজেল এবং সাইডে পাবেন দুটি বাটন। এছাড়া বাটনের সাথে থাকছে একটি মাইক্রোফোন। Galaxy Watch 3 অ্যাটমোস্ফিয়ারিক প্রেসার সেন্সর, জিপিএস অ্যান্টেনা, SpO2 সেন্সর, অ্যাম্বিয়েন্ট লাইট সেন্সর, জাইরো সেন্সর, ব্যারোমিটার, টাচস্ক্রিন এবং স্পিকারের সাথে এসেছে। এছাড়া স্মার্টওয়াচগুলি আপনার ব্লাড প্রেসার এবং হার্ট রেট মাপতে পারে ও আপনার স্লিপ মনিটরিং করতে পারে। এছাড়াও আপনারা পাচ্ছেন স্যামসাং এর বিক্সবি ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট।

SpO2 সেনসর থাকার কারণে আপনি এই স্মার্টওয়াচের মাধ্যমে জেনে নিতে পারবেন, যে আপনার রক্তে বর্তমানে অক্সিজেন লেভেল কতটা আছে। করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হলে শরীরে অক্সিজেন লেভেল অনেকটা নেমে যায়। তাই এই সেন্সর থেকে আপনি কিছুটা আন্দাজ করতে পারবেন যে আপনার শরীরে করোনা সংক্রমণ হয়েছে নাকি না।

আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ ফিচার রয়েছে এই গ্যালাক্সি ওয়াচ ৩ এ। এতে আপনারা পাবেন ECG মনিটরিং, ৫ এটিএম আইপি ৬৮ ওয়াটার রেসিস্টেন্ট ফিচার। এছাড়া এই ঘড়ির একটি বিশেষ ফিচার হলো, ট্রিপ বা ফল ডিটেকশন ফিচার। এই ফিচারের সাহায্যে আপনি অজ্ঞান হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেট করা এমার্জেন্সি নম্বরে একটি মেসেজ পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এই মেসেজ পাঠানো হবে যদি আপনি এক মিনিটের মধ্যে একেবারও রেসপন্স না করেন তখন, অথবা আপনার শরীর খারাপ হয়েছে তখন। এই ফিচার ১ মিনিটের জন্য আপনার ঘড়িতে বাজবে এবং তার মধ্যে যদি আপনি কোনো রেসপন্স না করেন তখন ওই মেসেজ পাঠানো হবে। Samsung Galaxy Watch 3 এর ৪১ মিলিমিটার মডেলের ওজন ৪৮ গ্রাম এবং ৪৫ মিলিমিটার মডেলের ওজন ৫৩ গ্রাম।

Samsung Galaxy Buds Live স্পেসিফিকেশন এবং ফিচার:

এই ইয়ারবাডসে আপনারা পাচ্ছেন ১২ মিলিমিটার ড্রাইভার এবং AKG টিউনিং ফিচার। এতে রয়েছে তিনটি মাইক্রোফোন – দুটি বাইরের দিকে এবং একটি ভিতর দিকে। কানেকটিভিটির জন্য রয়েছে ব্লুটুথ সাপোর্ট এবং সঙ্গে থাকছে SBC, AAC, এবং স্কেলেবল ব্লুটুথ কোডেক। এই ইয়ারবাডসের চার্জিং কেসে আপনারা পাচ্ছেন ইউএসবি টাইপ – সি সাপোর্ট। এছাড়া প্রত্যেকটি ইয়ারবাডে থাকছে ৬০ মিলি অ্যাম্পিয়ার এর ব্যাটারি, যা ৮ ঘণ্টার ব্যাটারি ব্যাকআপ দেবে। আবার চার্জিং কেসে আছে ৪৭২ মিলি অ্যাম্পিয়ার এর ব্যাটারি। কোম্পানির দাবি চার্জিং কেসের মাধ্যমে ২৯ ঘণ্টার ব্যাটারি ব্যাকআপ পাওয়া যাবে।

এই ইয়ারবাডসের চার্জিং কেসে Qi ওয়ারলেস চার্জিং সাপোর্ট করে। এছাড়াও আপনারা টাচ কন্ট্রোল, অ্যাপ্লিকেশন কাস্টমাইজেশন পেয়ে যাবেন। তবে এই ফিচার কাজ করবে Galaxy Buds app iOS ও Galaxy Wearable app Android এর ক্ষেত্রে। আপনারা এই অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করলে এই ইয়ারফোনের নয়েজ ক্যান্সলেশন, ইকুয়ালাইজার সেটিং, টাচ কন্ট্রোল কাস্টমাইজেশন এবং ব্যাটারি লেভেল চেক করতে পারবেন।

স্যামসাং এর তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাদের এই ইয়ারবাডসে ফাস্ট চার্জিং সাপোর্ট করে এবং মাত্র ৫ মিনিট চার্জ দিলেই আপনি ১ ঘন্টার প্লেব্যাক টাইম পেয়ে যাবেন। এছাড়াও ইয়ারফোনে IPX 2 রেটিং রয়েছে এবং এটি স্যামসাংয়ের বিক্সবি ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট সাপোর্টের সাথে এসেছে।