Earth’s Black Box: মানবসভ্যতার অগ্রগতি থেকে পতন, প্রতিটি মুহূর্ত রেকর্ড করবে অবিনেশ্বর যন্ত্র

বিমান দুর্ঘটনা থেকে বাঁচতে ব্যবহৃত, 'ব্ল্যাক বক্স' এর অনুকরণে মূলত এই যন্ত্রটির নির্মাণ করা হচ্ছে

scientists-are-building-a-black-box-to-record-the-end-of-civilization

ছোটোবেলার ইতিহাস বইয়ের পাতায় পড়া সিন্ধু সভ্যতার পতনের কারণ মনে পড়ে? সে নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে আজও রয়ে গিয়েছে নানা মতভেদ ও অস্পষ্টতা। তবে, পৃথিবীর ক্ষেত্রে তেমনটা মোটেই হওয়ার নয়। পৃথিবী ধ্বংসের পর আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সযত্নে রেকর্ড করা থাকবে ধ্বংসের অভিমুখে মানবজাতির নেওয়া প্রতিটা পদক্ষেপ। সম্প্রতি, তাসমানিয়ার (Tasmania) উপকূলে ‘ব্ল্যাক বক্স অফ্ দ্য আর্থ’ (Black Box of the Earth) নির্মাণের মাধ্যমে সেই পথকেই সুনিশ্চিত করলেন গবেষণাকারীদের একটি দল।

বাক্সের আকৃতির এই অবিনশ্বর যন্ত্রটি গোটা পৃথিবীর জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য, বায়ুমন্ডলীয় উষ্ণতা এবং পৃথিবীর স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক অন্যান্য সমস্ত ঘটনাগুলিকে ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে নথিভুক্ত করবে, এমনটাই জানা যাচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার তাসমানিয়া রাষ্ট্রের একটি গ্রানাইট সমভূমির ওপর তিন ইঞ্চি পুরু ইস্পাত প্লেট এবং সৌর প্যানেল দ্বারা নির্মিত এই ব্ল্যাক যন্ত্রটি আগামী প্রজন্মের কাছে আমাদের প্রতিটি কুকীর্তী ও দায়িত্বজ্ঞানহীন পদক্ষেপের প্রমাণস্বরূপ ধরা দেবে। বাক্সের ছাদে, সোলার প্যানেল দ্বারা চালিত ইন্টারনেট-সংযুক্ত স্টোরেজ ড্রাইভের একটি সিস্টেম এতে বর্তমান থাকবে।

‘ব্ল্যাক বক্স’ ওয়েবসাইটটির তরফে বলা হয়ছে, ডিভাইসটির উদ্দেশ্য হল, এমন ঘটনাগুলির একটি নিরপেক্ষ বিবরণ প্রদান করা, যেগুলি পৃথিবী ধ্বংসের দিকে ক্রমাগত আমাদের পরিচালিত করছে, ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে দায়বদ্ধ করে রাখছে এবং পাশাপাশি, ধ্বংস ঠেকাতে বর্তমানে জরুরী পদক্ষেপগুলি নিতেও অনুপ্রাণিত করছে৷

প্রকল্পটি তাসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক, বিপণন সংস্থা ‘ক্লেমেঞ্জার বিবিডিও’ (Clemenger BBDO) এবং সৃজনশীল সংস্থা, ‘দ্য গ্লু সোসাইটি’র (The Glue Society) একটি যৌথ উদ্যোগে গৃহীত হয়েছে। দলটি প্রাথমিক ভাবে বিভিন্ন জলবায়ু সংক্রান্ত তথ্য যেমন বায়ুমণ্ডলীয় CO2 স্তর, সমুদ্রের তাপমাত্রা এবং শক্তি খরচের মাত্রা রেকর্ড করার জন্য বাক্সটি তৈরি করলেও, এটি সংবাদ শিরোনাম এবং সামাজিক গণমাধ্যমের পোস্টগুলির প্রাসঙ্গিক তথ্যও সংগ্রহ করবে বলে জানা যাচ্ছে।

বিমান দুর্ঘটনা থেকে বাঁচতে ব্যবহৃত, ‘ব্ল্যাক বক্স’ এর অনুকরণে মূলত এই যন্ত্রটির নির্মাণ করা হচ্ছে। গ্লু সোসাইটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা, জোনাথন নিবোন (Jonathan Kneebone) একটি সাক্ষাতকারে জানিয়েছেন, যন্ত্রটি আমাদের সকলের অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখার জন্যই তৈরি করা হয়েছে। যদি সবচেয়ে চূড়ান্ত খারাপ পরিণতিটিও ঘটে, শুধুমাত্র পাওয়ার গ্রিডগুলি নিচে যাওয়ার কারণে, এই যন্ত্রটি তখনও একই স্থানে অবশিষ্ট থেকে যাবে।

প্রসঙ্গত, পশ্চিম উপকূলের কাছে অস্ট্রেলিয়ান দ্বীপের একটি প্রত্যন্ত প্রান্তে এই বিস্ময়কর প্রকল্পটির কাজ আগামী বছরের (২০২২ সাল) প্রথম দিকেই সম্পন্ন হতে চলেছে। যন্ত্রটি জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত বিভিন্ন টুইট ও শিরোনাম সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাসঙ্গিক তথ্য সংগ্রহের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু করে দিয়েছে।

তবে, গবেষণাকারী দলটির কাঁধে আপাতত সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হল ভবিষ্যত সভ্যতার কাছে এর মধ্যে থাকা তথ্যগুলিকে আরও সহজে তুলে ধরার ব্যবস্থা করা। কে বলতে পারে, কোনো ভবিষ্যত বিশ্বে, হয়তো এই তথ্য দেখেই আগাম সাবধানতা অবলম্বন করবে কেউ এবং সময় থাকতে ভূবিশ্বের প্রতি আরও একটু যত্নবান হবে।

টেকগাপের মেম্বাররা ও সদ্য যোগ দেওয়া লেখকরা এই প্রোফাইলের মাধ্যমে টেকনোলজির সমস্ত রকম খুঁটিনাটি আপনাদের সামনে আনে।