ডাউনলোড রেটের নিরিখে WhatsApp কে টপকে গেল Signal, আপনি ব্যবহার করছেন?

signal-beats-whatsapp-to-become-top-free-app-in-apple-app-store

মাত্র তিন-চার দিন আগে নতুন প্রাইভেসি পলিসি সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে জনপ্রিয় চ্যাটিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp); অ্যাপ্লিকেশনটি খোলা মাত্রই স্মার্টফোনের স্ক্রিনে উপস্থিত হচ্ছে একটি পপ-আপ বা ইন-স্ক্রিন নোটিফিকেশন। বলা হচ্ছে, এই পরিবর্তিত নীতিমালা না মানলে ইউজারদের হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টটি ডিলিট হয়ে যেতে পারে। এক্ষেত্রে, হোয়াটসঅ্যাপের এই নতুন পলিসি দেখে বহু ইউজারের মনেই প্রশ্ন উঠছে যে আগামী দিনে মেসেজিং মাধ্যমটি ব্যবহারের সময় আদৌ গোপনীয়তা বজায় থাকবে কিনা। যদিও হোয়াটসঅ্যাপ জানিয়েছে যে তারা কোনো মতেই ইউজারদের ডেটা Facebook এর সাথে শেয়ার করবে না। এরপরেও নতুন এই পলিসি কার্যকরী হওয়ার পর হোয়াটসঅ্যাপ ইউজারদের ডিভাইসের ব্যাটারি স্ট্যাটাস, লোকেশন কিংবা সিগন্যাল জাতীয় তথ্য ট্র্যাক করবে – এমনটা জানতে পারায় বহু ইউজারই অস্বস্তি বোধ করছেন। এই ঘটনায় হোয়াটসঅ্যাপের এখনও অবধি সর্বনাশ না হলেও, “পৌষ মাস” হয়েছে আর একটি ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং অ্যাপ সিগন্যাল (Signal)-এর। কিছুদিন আগে পর্যন্ত অনেকেই এই অ্যাপটির নাম জানতেন না, কিন্তু এখন এই অ্যাপটি ব্যাপক পরিমাণ ডাউনলোড হচ্ছে। এমনকি এখন অ্যাপল অ্যাপ স্টোরে ডাউনলোড রেটের নিরিখে হোয়াটসঅ্যাপকে ছাড়িয়ে গেছে সিগন্যাল।

রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারত, জার্মানি, ফ্রান্স, অস্ট্রিয়া, ফিনল্যান্ড, হংকং এবং সুইজারল্যান্ডের মত অঞ্চলগুলিতে WhatsApp এর থেকে বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে Signal; সেক্ষেত্রে জার্মানি এবং হাঙ্গেরিতে গুগল প্লে স্টোরের শীর্ষস্থানীয় ফ্রি অ্যাপ্লিকেশন হয়ে উঠেছে সিগন্যাল। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের মতে গত দুদিনে, এক লাখেরও বেশি মানুষ তাদের অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস ডিভাইস থেকে সিগন্যাল অ্যাপটিকে ডাউনলোড করেছে। পরিস্থিতি এতই বেসামাল যে, ব্যাপক হারে ডাউনলোড করার ফলে সম্প্রতি অ্যাপটির সার্ভারে প্রভাব পড়েছিল এবং বহু ডাউনলোড-কারীর ওটিপি ভেরিফিকেশন বিলম্বিত হয়েছিল।

মনে করা হচ্ছে, টেসলা কোম্পানির সিইও এলন মাস্কের টুইট পোস্টটিই হঠাৎ করে সিগন্যাল অ্যাপকে এত জনপ্রিয় করে ফেলেছে বা এটির চাহিদা বাড়িয়েছে। এলন, সম্প্রতি টুইট করে জানান যে তিনি এই অ্যাপটি ব্যবহার করছেন। পাশাপাশি অন্যান্য ইউজারদেরও অ্যাপটি ব্যবহার করার পরামর্শ দেন তিনি। মাস্কের এই টুইটটিকে আবার রিটুইট করেন টুইটারের সিইও জ্যাক ডর্সি। ফলে, একদিকে হোয়াটসঅ্যাপের পরিবর্তিত প্রাইভেসি পলিসি, অন্যদিকে এই টুইট পোস্ট – এই দুটি কারণেই যে হুড়মুড়িয়ে Signal অ্যাপের ডাউনলোডের হার বেড়েছে এমনটাই নির্দ্বিধায় বলা যায়।

হোয়াটসঅ্যাপের থেকে কতটা আলাদা এই সিগন্যাল অ্যাপ?

সিগন্যাল অ্যাপটি, ইউজারদের ইনস্ট্যান্ট মেসেজ করার, অডিও এবং ভিডিও কল করার এবং ফটো, ভিডিও বা কোনো লিঙ্ক শেয়ার করার সুযোগ দেয়। অ্যাপ্লিকেশনটির দাবি, এটি খুবই কম পরিমাণে ইউজার ডেটা ব্যবহার করে। এছাড়া এটি, ক্লাউড স্টোরেজে অসুরক্ষিত ব্যাকআপ সেভ করেনা এবং এটি ইউজারের ডেটাবেসটিকে সম্পূর্ন এনক্রিপ্টেড রাখে। এই অ্যাপটির সবচেয়ে বড় সুবিধা হল এটির প্রাইভেসি সিস্টেম। তাছাড়া, এটি একটি নন-প্রফিট অর্গ্যানাইজেশনের অধীনে বা ইউজারদের অনুদানের ভিত্তিতে চলে, ফলে কোনো তৃতীয় পক্ষের এই অ্যাপ ম্যানেজমেন্টে কোনো ভূমিকা নেই।