গত তিন বছরে সর্বোচ্চ, জুন মাসে ভারতে এসেছে ২২২৫ কোটি টাকার স্মার্টফোন

smartphone-companies-imported-rs-2225-crore-phones-in-india-on-june

করোনা মহামারীর জেরে মানুষের অবস্থা বেহাল, পড়াশোনা, কাজ-ব্যবসা সমস্ত কিছুই বিপর্যস্ত। সাথে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে ভারতের স্মার্টফোন বাজারেও। লকডাউন চলাকালীন স্মার্টফোনের বাজারে অনেক উত্থান-পতন দেখা গেছে। চাহিদা থাকলেও বেশ কিছুদিন স্মার্টফোনের স্টক সীমিত ছিল। তবে বিভিন্ন বৈদেশিক সংস্থাগুলি এখন স্থানীয় উৎপাদন শুরু করেছে। যার ফলে ভারতে ফের স্মার্টফোন বিক্রি শুরু হয়েছে। আর এই বিক্রি কি পরিমান হচ্ছে তা হয়তো আপনি কল্পনাও করতেও পারবেন না। জানলে অবাক হবেন গত জুন মাসে ভারতে এত বেশি পরিমাণে স্মার্টফোন আমদানি হয়েছে, যা শেষ তিন বছরের সব রেকর্ডকে ছাপিয়ে গেছে।

আমরা যতোই বয়কট চীনা দাবি তুলি না কেন, ভারতের প্রায় পুরো স্মার্টফোন বাজার বিদেশী সংস্থাগুলির উপর নির্ভর করে এবং এর বেশিরভাগ ডিভাইস চীন থেকেই আসে। আমদানিকারক সংস্থাগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য Xiomi, Vivo, Oppo এবং Realme।

বাণিজ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুসারে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে প্রায় ৫.৬ কোটি টাকার ডিভাইস আমদানি করা হয়েছিল, তবে জুন মাসে ভারতে আমদানি হওয়া ফোনের মোট দাম প্রায় ২,২২৫.২ কোটি টাকা। বিশেষজ্ঞদের মতে, জুলাই মাসে এই আমদানি আরো ১০ গুণ বাড়তে পারে।

এমনিতে বেশিরভাগ স্মার্টফোন ব্র্যান্ড যেমন শাওমি, ভিভো, অপ্পো, রিয়েলমি, ওয়ানপ্লাস এবং স্যামসাংয়ের ভারতে নিজস্ব উৎপাদন কেন্দ্র রয়েছে। কিন্তু এই বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে স্মার্টফোন ব্র্যান্ডগুলিকে অনেক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। যার জেরে জুনে এত আমদানি – এমনটাই বলছেন কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের সহযোগী পরিচালক তরুণ পাঠক।

আসলে করোনা সংক্রমণের আগে ভারতে যে ফোনগুলি বিক্রি হত, তার ৯৫% শতাংশ ফোন ছিল সংস্থাগুলির ভারতীয় ফ্যাক্টরিতে তৈরী ফোন। তবে করোনা-র কারণে স্মার্টফোন উৎপাদন বন্ধ রাখে স্মার্টফোন কোম্পানিগুলি।এদিকে ক্রমবর্ধমান চাহিদার জন্য স্টকও শেষ হয়ে যায়। যার কারণেই বাইরে থেকে ২,২২৫.২ কোটি টাকার স্মার্টফোন এদেশে আনা হয়।