ফের জীবনরক্ষাকারী Apple Watch, ১৫ তলা উঁচু থেকে পড়েও বাঁচল ইউজারের প্রাণ

বিদেশের মাটিতে বহুবার Apple Watch-এর মাধ্যমে ইউজারদের প্রাণ বাঁচার কথা শোনা গেছে। তবে এবার ভারতেই এই ধরণের একটি ঘটনা ঘটেছে!

Apple Watch Saved Indian User Life

Apple Watch যে শুধুই আধুনিক ঘড়ি নয়, এর থেকে প্রচুর মানুষের জীবন রক্ষা হয়েছে – একথা আমরা বহুবার শুনেছি। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেসব ঘটনা আমাদের দেশের বাইরে ঘটেছে। কিন্তু সম্প্রতি ভারতেই Apple Watch-এর দৌলতে এমন একটি জিনিস ঘটেছে, যা আপনাকে সম্ভবত অবাক করে দেবে। ঘটনাটি মহারাষ্ট্রের স্মিথ মেহতার। মেহতা সম্প্রতি ট্রেকিংয়ের সময় একটি দুর্ঘটনার মুখে পড়েন, যেখানে তিনি প্রায় ১৪২ থেকে ১৮০ ফুট নীচে পড়েছিলেন। এই সময় তাঁর কারো সাথে কোনো যোগাযোগের উপায় ছিলনা। কিন্তু সৌভাগ্যবশত তাঁর কাছে একটি Apple Watch ছিল, যার মাধ্যমে তিনি নিজের বাবা মায়ের সাথে যোগাযোগ করতে সক্ষম হন। আসুন এই চমকপ্রদ ঘটনার কথা বিস্তারিতভাবে জেনে নিই।

দুর্ঘটনায় ত্রাতা Apple Watch এবং Jio 5G নেটওয়ার্ক

মেহতার বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি যখন ট্র্যাকে যান তখন তাঁর সাথে ব্যাগ ছিল না; স্বাভাবিকভাবেই তাঁর কাছে ছিল না কোনো ফোনও। তাই তিনি উচ্চতা থেকে পড়ে যাওয়ার কারো সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু ১৪২ থেকে ১৮০ ফুট (উচ্চতায় প্রায় ১৫ তলা বিল্ডিংয়ের সমতুল্য) নিচে পড়ার পর তাঁর ত্রাতা হয়ে দাঁড়ায় অ্যাপল ওয়াচ এবং তাতে থাকা জিও ৫জি ই-সিম। দুর্ঘটনাস্থলে জিওর নেটওয়ার্ক ভালো থাকায় তিনি অ্যাপল ওয়াচের সাহায্যে বাবা-মায়ের সাথে যোগাযোগ করতে সক্ষম হন। এক্ষেত্রে তিনি তাঁর বাবা-মাকে ফোন করার পর তাঁরা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব একটি উদ্ধারকারী দল (রেসকিউ টিম) পাঠাতে সক্ষম হন। এরপর ওই দল পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগলেও, শেষ অবধি মেহতা রক্ষা পান।

সবমিলিয়ে মেহতা গোটা ঘটনায় অ্যাপল ওয়াচকে ধন্যবাদ দিয়েছেন, তাঁর মতে এই গোটা পরিস্থিতিতে অ্যাপল ওয়াচ তাঁকে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছে। শুধু তাই নয়, এই প্রসঙ্গে মেহতা মিডিয়াকে তাঁর প্রেক্ষিতে অ্যাপল ওয়াচের কিছু সেরা ফিচারের কথা বলেছেন। আসুন সেগুলির ব্যাপারে কিছু কথা জেনে নিই।

স্মিথের মতে এগুলি Apple Watch-এর সেরা ফিচার

E-Sim: স্মিথ বলেছেন যে, অ্যাপল ওয়াচের অন্যতম একটি সেরা ফিচার হল ই-সিম। কারণ এটির মাধ্যমে বন্ধু বা পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা খুবই সহজ, এর জন্য ফোনেরও প্রয়োজন হয়না।

রিমাইন্ডার: অ্যাপল ওয়াচে একটি রিমাইন্ডার ফিচার আছে, যা সময়ে সময়ে ওষুধ খাওয়ার কথা মনে করিয়ে দেয়। ফলে এর ইউজারদের ওষুধ মিস করার চান্স থাকেনা। এই ফিচারটিও স্মিথের অত্যন্ত পছন্দের।

হেল্থ ফিচার: অ্যাপল ওয়াচের হেল্থ ফিচার খুবই কাজের, কারণ এতে আপনি আপনার স্বাস্থ্যের অবস্থার সম্পূর্ণ খেয়াল রাখতে পারবেন। স্মিথ জানান যে তিনি একসময় প্রায় ২৮ দিন হাসপাতালে ছিলেন। এসময় তিনি তাঁর এই বিশেষ ঘড়ি থেকেই ইসিজি এবং রক্তের অক্সিজেন পরীক্ষা করতে সক্ষম হন।