সোশ্যাল মিডিয়া ও OTT প্ল্যাটফর্মের জন্য কড়া নির্দেশিকা, জানুন ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ দিক

social-media-ott-platforms-new-rules-in-india-know-6-important-things

সাম্প্রতিক সময়ে বারংবার সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওটিটি প্ল্যাটফর্মকে কেন্দ্র করে বিতর্ক দানা বাঁধছে ভারতে; কখনো এগুলির বিরুদ্ধে ভুয়ো খবর প্রচার করার অভিযোগ উঠছে, তো কখনো নিশানায় থাকছে কোনো শো-এর কনটেন্ট। তাছাড়া ভারত সরকারের সাথে এই ধরণের সংস্থাগুলি সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে – এমন ঘটনাও নতুন নয়। সেক্ষেত্রে এবার দেশে বহুল ব্যবহৃত সোশ্যাল মিডিয়া সাইট, ওটিটি (ওভার দ্য টপ) প্ল্যাটফর্ম এবং সমস্ত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলির জন্য নয়া নীতিমালা ঘোষণা করল কেন্দ্র সরকার।

রিপোর্ট অনুযায়ী, ‘গাইডলাইনস ফর ইন্টারমিডিয়ারিজ অ্যান্ড ডিজিটাল মিডিয়া এথিকস কোড’ নামের এই নতুন নীতিমালা একদিকে যেমন প্রযুক্তি সংস্থাগুলিকে কোনো অভিযোগ তাড়াতাড়ি এবং যথাযথভাবে মেটানোর জন্য বাধ্য করবে, তেমনি এটির সাহায্যে উল্লিখিত প্ল্যাটফর্মগুলির নিয়ন্ত্রক সংস্থার পরিচালন ক্ষমতা আরো দৃঢ় হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া, ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলিকে, শিশুদের দেখার যোগ্য নয় এমন সব কন্টেন্টে সুনির্দিষ্ট লেবেলিং এবং পেরেন্টাল কন্ট্রোল ফিচার প্রদান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এই নতুন গাইডলাইনে। এখন আসুন, এই গাইডলাইনের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি নিয়মনীতি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিই।

ডিজিটাল মিডিয়ার জন্য প্রবর্তিত উক্ত নীতিমালার ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল:

১. বিভিন্ন ওটিটি প্ল্যাটফর্ম যেমন Netflix, Amazon, Zee5 ইত্যাদিকে নিজেদের কন্টেন্ট সমূহকে ৫টি বয়স ভিত্তিক ক্যাটাগরিতে – U (ইউনিভার্সাল), U/A ৭ বছর, U/A ১৩ বছর, U/A ১৬ বছর এবং A (অ্যাডাল্ট) ভাগ করতে হবে।

২. ওটিটি প্ল্যাটফর্মে একটি নির্দিষ্ট পেরেন্টাল লক থাকা বাধ্যতামূলক।

৩. প্রতিটি সোশ্যাল মিডিয়া সাইটকে প্রেস কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার সাংবাদিকতার শর্ত ও কেবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক রেগুলেশন আইন মেনে চলতে হবে।

৪. ভারতের সমস্ত পাবলিশার্সদের একটি তিন-স্তরীয় অভিযোগ নিরসন ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে। এই ব্যবস্থায়, প্রথম স্তরটি প্রকাশকদের দ্বারা স্ব-নিয়ন্ত্রিত হবে এবং দ্বিতীয় স্তরটি প্রকাশকদের স্ব-নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলির পর্যবেক্ষণে থাকবে। অন্যদিকে তৃতীয় স্তরে থাকবে সম্পূর্ণ স্বাবলম্বী তদারকি ব্যবস্থা।

৫. প্রতিটি সংস্থাকে, অভিযোগ নিরসনকারী হিসেবে একজন ভারতীয় অফিসার নিয়োগ করতে হবে যার দায়িত্ব হবে যে কোনো অভিযোগ ১৫ দিনের মধ্যে নিরসন করা।

৬. বিভিন্ন অভিযোগ নিরসনে এই ধরণের সংস্থাগুলি অভ্যন্তরীণ একটি কমিটিও তৈরি করতে পারে যাতে মেম্বার হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এবং অন্যান্য বিদগ্ধ ব্যক্তিদের রাখা যেতে পারে। তবে এই কমিটিতে ৬ জনের বেশি সদস্য থাকবেনা।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকার এই প্রসঙ্গে বলেছেন যে, প্রতিটি বেসরকারি স্বাধীন সংবাদসংস্থাকে প্রেস কাউন্সিলের নিয়ম মেনে চলতে হয় কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ার ক্ষেত্রে এতদিন কোনো নির্দিষ্ট গাইডলাইন ছিল না। তাই এই নয়া নীতিমালায় সেই দিকেও নজর দেওয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে এই গাইডলাইনকে স্বাগত জানিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্ট ফেসবুক। পাশাপাশি তারা ইন্টারনেট দুনিয়ায় উৎপন্ন বিভিন্ন সমস্যার দিককে প্রতিহত করতে সর্বশক্তি প্রয়োগ করবে বলেও জানিয়েছে।

হোয়াটসঅ্যাপে খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন

টেকগাপের মেম্বাররা ও সদ্য যোগ দেওয়া লেখকরা এই প্রোফাইলের মাধ্যমে টেকনোলজির সমস্ত রকম খুঁটিনাটি আপনাদের সামনে আনে।