ভারতীয় কোচ হওয়ার জন্য আবেদন এশিয়ার অ্যালেক্স ফার্গুসনের, বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন দেশের ফুটবলকে

ভারতীয় ফুটবলের সুদিন কবে ফিরে আসবে তা নিয়ে ফুটবলপ্রেমীরা দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করছেন। সাম্প্রতিক সময় ইগোর স্টিমাচ (Igor Stimac) কথার মাধ্যমে ব্লু ব্রিগেডদের নিয়ে স্বপ্ন…

ভারতীয় ফুটবলের সুদিন কবে ফিরে আসবে তা নিয়ে ফুটবলপ্রেমীরা দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করছেন। সাম্প্রতিক সময় ইগোর স্টিমাচ (Igor Stimac) কথার মাধ্যমে ব্লু ব্রিগেডদের নিয়ে স্বপ্ন দেখালেও বাস্তবে তার তেমন প্রভাব লক্ষ্য করা যায়নি। ধারাবাহিকভাবে ভারতীয় দল আন্তর্জাতিক মঞ্চে অসফল হওয়ায় শেষ পর্যন্ত স্টিমাচকে সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন (AIFF) নির্দিষ্ট সময়ের আগেই প্রধান কোচের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছে। এবার এই পদের জন্য অন্যতম জনপ্রিয় কোচ আবেদন করলেন।

কোনো ফুটবল দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য একজন কোচ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন। তবে ক্লাব ফুটবলে কোচিং করা এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলে কোচিং করা একই বিষয় নয়। ইগোর স্টিমাচ তৎকালীন অধিনায়ক সুনীল ছেত্রীর সঙ্গে ভারতীয় ফুটবলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে হতাশাজনক পারফরমেন্স করে ব্লু ব্রিগেডরা এই টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় পর্যায় থেকেই বিদায় নিয়েছে। ফলে এআইএফএফ ইগর স্টিমাচকে নির্দিষ্ট সময়সীমার আগেই প্রধান কোচের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়ে দৃষ্টান্ত তৈরি করে।

এর সঙ্গেই নতুন প্রধান কোচের জন্য জাতীয় ফুটবল ফেডারেশন সমস্ত রকম প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। ইতিমধ্যেই এই পদের জন্য ২১৪ টি আবেদন জমা পড়েছে। আবেদন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৩ জুলাই। ফলে আরও আবেদন আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এই আবেদনগুলির মধ্যে বর্তমানে পার্ক হ্যাং-সিওর (Park Hang-seo) নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে। তিনি ভিয়েতনাম ফুটবল দলকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে শক্তিশালী হিসাবে গড়ে তোলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। পার্ক হ্যাং-সিও এই দলের কর্মকর্তা হিসাবে আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসেন।

২০১৭ সালে পার্ক ভিয়েতনাম জাতীয় ফুটবল দলের ম্যানেজার হিসাবে নিযুক্ত হন। তার সময়কালেই ভিয়েতনাম অবিশ্বাস্যভাবে ২০১৭ এএফসি এশিয়ান কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছায়। গুরুত্বপূর্ণ কোয়াটার ফাইনালে জাপানের কাছে তারা ১ গোলে হেরে ছিল। ‘আঙ্কেল পার্ক’ নামে জনপ্রিয় পার্ক হ্যাং-সিও ২০২২ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে ভিয়েতনামের মাস্টারমাইন্ড হিসাবে কাজ করেছিলেন। তিনি বিশ্বকাপের এশিয়ান বাছাইপর্বে দলটিকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যান।

২০২৩ সালের এশিয়ান কাপে দক্ষিণ করিয়া হতাশাজনক পারফর্মেন্স করার পর ৬৫ বছর বয়সী পার্ককে জাতীয় দলের কোচের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছিল। অন্যদিকে ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন এইরকম কোচকে দলে নেওয়ার আগে তার বেতন সম্পর্কে সর্ব প্রথম ভাবনা চিন্তা করছে। সূত্রের মতে কোচ হিসাবে তিনি মাসিক ৫০,০০০ মার্কিন ডলার অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় আনুমানিক ৪১ লাখ টাকা বেতন নিয়ে থাকেন। কিন্তু ফেডারেশন এত দিন ইগর স্টিমাচকে প্রতি মাসে সর্বোচ্চ আনুমানিক ২.৫ লক্ষ টাকা বেতন দিত।