Homeনিউজজন্ম হওয়ার পরই বানিয়ে নিন বাচ্চার আধার কার্ড, লাগবে না বার্থ সার্টিফিকেট, কীভাবে আবেদন করবেন জানুন

জন্ম হওয়ার পরই বানিয়ে নিন বাচ্চার আধার কার্ড, লাগবে না বার্থ সার্টিফিকেট, কীভাবে আবেদন করবেন জানুন

জন্ম প্রমাণপত্র ছাড়া হাসপাতালের ডিসচার্জ সার্টিফিকেট দেখিয়েও এখন তৈরী করা যাবে ‘বাল আধার’ কার্ড

আধার কার্ড (Aadhaar Card), বর্তমানে ভারতের সর্বত্র প্রযোজ্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট। বয়স ১ হোক বা ৮০, প্রতিটি ভারতীয় নাগরিকের কাছে পরিচয় এবং ঠিকানার প্রামাণ্য নথি হিসেবে আধার কার্ড থাকা আবশ্যক। আর সেই কারণেই, UIDAI ওরফে ‘ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন অথরিটি অফ ইন্ডিয়া’ পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য চালু করেছিল ‘বাল আধার’। এযাবৎ, নবজাতক বা ৫ বছরের কমবয়সী বাচ্চাদের আধার কার্ড বানানোর জন্য জন্ম প্রমাণপত্র সহ অভিভাবকদের ডকুমেন্ট লাগতো। তবে সম্প্রতি UIDAI শিশুদের জন্য আধার কার্ড তৈরির প্রক্রিয়াকে আরো সহজ করে দিয়েছে। পরিবর্তিত নিয়ম অনুসারে, জন্ম প্রমাণপত্র ছাড়াও হাসপাতালের ডিসচার্জ সার্টিফিকেটের সাহায্যেও অভিভাবকেরা তাদের সন্তানদের আধার কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে, ডিসচার্জ স্লিপ বা জন্ম শংসাপত্রের সাথে বাবা কিংবা মা যেকোনো একজনের আধার কার্ড সহ আরো কিছু ডকুমেন্ট জমা দিতে হবে। এক্ষেত্রে, ‘বাল আধার’ কার্ড আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টের তালিকা এবং কী কী করণীয় তা আমাদের এই প্রতিবেদন থেকে জেনে নিন।

জন্ম প্রমাণপত্র ভিন্ন হাসপাতালের ডিসচার্জ সার্টিফিকেট দেখিয়েও এখন তৈরী করা যাবে ‘বাল আধার’ কার্ড

আইডেন্টিটি প্রুফ বা পরিচয়ের প্রমাণ হিসেবে এই দস্তাবেজগুলি থাকা প্রয়োজন

পাঁচ বছরের কমবয়সী শিশুদের আধার কার্ডের জন্য কোনও বায়োমেট্রিক ডেটার (ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা রেটিনা স্ক্যান) প্রয়োজন নেই। আধার কার্ডটি পিতামাতার জনতাত্ত্বিক তথ্য (demographic information) এবং ছবির উপর ভিত্তি করে তৈরি করা সম্ভব।

অভিভাবকদের কাছে – পাসপোর্ট, প্যান কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স, রেশন কার্ড (Public Distribution System Photo Card), ভোটার আইডি, আর্মস লাইসেন্স, ভারত সরকার কর্তৃক প্রদত্ত আইডি প্রুফ, একটি স্বীকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রত্যয়িত (সার্টিফায়েড) ফটো আইডি প্রুফ, PSU কর্তৃক প্রদত্ত সার্ভিস ফটো আইডি কার্ড, NREGA জব কার্ড, ফটো ক্রেডিট কার্ড, পেনশনারের ফটো কার্ড, ফ্রিডম ফাইটারের ফটো কার্ড, কৃষক বা কিষান ফটো পাস বুক, CGHS ফটো কার্ড, ম্যারেজ সার্টিফিকেট, আইনগতভাবে স্বীকৃত নাম পরিবর্তনের সার্টিফিকেট, ECHS ফটো কার্ড এবং রাজ্য সরকার / কেন্দ্র সরকার / প্রশাসন কর্তৃক প্রদত্ত প্রতিবন্ধী মেডিকেল সার্টিফিকেট বা ইউনিক ডিসেবিলিটি আইডি কার্ড (Unique Disability ID card) -এই ডকুমেন্টগুলির কোনো একটি থাকা দরকার।

ঠিকানা প্রমাণ যাচাই করার জন্য অভিভাবকের পাসপোর্ট, ব্যাঙ্ক পাসবুক, ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট বা পাসবুক, পোস্ট অফিস অ্যাকাউন্ট স্টেটমেন্ট, ভোটার আইডি কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স, রেশন কার্ড, PSU কর্তৃক জারি করা সার্ভিস ফটো আইডি কার্ড (ঠিকানা সহ), ৩ মাস পুরোনো ইলেক্ট্রিসিটি বিল, ৩ মাস পুরোনো জলের বিল, ৩ মাস পুরোনো গ্যাস কানেকশন বিল, টেলিফোন ল্যান্ডলাইনের বিল, হোম ট্যাক্সের রসিদ, ক্রেডিট কার্ড স্টেটমেন্ট, বীমা পলিসির ডকুমেন্ট, ব্যাঙ্ক স্বাক্ষরিত লেটারহেড (ঠিকানা ও ফটো সহ), অফিস কর্তৃক স্বাক্ষরিত কোম্পানির লেটারহেড (ঠিকানা ও ফটো সহ), NREGA জব কার্ড, আমর্স লাইসেন্স, পেনশন কার্ড, ফ্রিডম ফাইটারের ফটো কার্ড, কৃষক / কিষান পাসবুক, CGHS কার্ড, ECHS কার্ড, আয়কর বিভাগের মূল্যায়ন আদেশ, গাড়ির (vehicle) রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট, রেন্ট এগ্রিমেন্ট, ডাক বিভাগ কর্তৃক ফটো এবং অ্যাড্রেস কার্ড এবং রাজ্য সরকার কর্তৃক জারি করা ফটো সহ জাতি ও অধিবাসী প্রমাণপত্র থাকা দরকার।

শিশুদের জন্য এইভাবে করুন আধার কার্ডের আবেদন

১. আপনি যদি নিজের সন্তানের জন্য একটি আধার কার্ড তৈরী করতে চান তাহলে, প্রথমেই UIDAI.gov.in -এই ওয়েবসাইটে চলে যান।

২. পেজ ওপেন হলে আধার কার্ড রেজিস্ট্রেশন লিঙ্কে ক্লিক করতে হবে।

৩. এখানে,আপনাকে প্রয়োজনীয় তথ্য নথিভুক্ত করতে হবে। যার মধ্যে, আপনার সন্তানের ব্যক্তিগত বিবরণ, যথা – নাম, ফোন নম্বর সহ অন্যান্য বায়োমেট্রিক তথ্য সামিল থাকবে।

৪. তারপর, ঠিকানা, জেলা এবং রাজ্যের নাম লিখতে হবে।

৫. এরপর, আধার কার্ডের জন্য রেজিস্ট্রেশন সেন্টার চয়ন করতে হবে। এর জন্য আপনাকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট অপশনে ক্লিক করতে হবে।

৬. এবার, নিকটবর্তী আধার সেন্টার, তারিখ এবং টাইম স্লট চয়ন করতে হবে।

নির্দিষ্ট তারিখে নির্বাচিত আধার সেন্টারে চলে গেলেই আপনার কাজ হয়ে যাবে।

হোয়াটসঅ্যাপে খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন

আরও পড়ুন