Homeনিউজচাহিদা নিম্নমুখী হওয়ার আশংকা, ৯ কোটি iPhone 14 তৈরী করতে চায় Apple

চাহিদা নিম্নমুখী হওয়ার আশংকা, ৯ কোটি iPhone 14 তৈরী করতে চায় Apple

সাপ্লায়ারদের আইফোন ১৪ সিরিজের সর্বোচ্চ ৯০ মিলিয়ন ইউনিট নির্মাণের নির্দেশ দিলো অ্যাপল

অ্যাপল (Apple) তাদের প্রত্যেক সাপ্লায়ারকে আপকামিং আইফোন ১৪ (iPhone 14) সিরিজের সর্বোচ্চ ৯০ মিলিয়ন (৯ কোটি) ইউনিট তৈরি করার কথা জানিয়েছে। একই সাথে, টেক জায়ান্টটি সামগ্রিকভাবে ‘নেক্সট জেনারেশন’ আইফোন সিরিজের মোট ২২০ মিলিয়ন ইউনিট ডেভলপের পরিকল্পনা করছে বলেও খবর পেয়েছি আমরা। অর্থাৎ গত বছরের ন্যায় এই বছরও আইফোন উৎপাদনের পরিমান অভিন্ন থাকছে। মূলত, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার কারণে স্মার্টফোনের বাজারে তুলনামূলক কম প্রতিযোগিতা থাকায় এবং ধনী গ্রাহকদের চাহিদা উপর ভিত্তি করে অ্যাপল এইরূপ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। আর এই সকল দাবি ও ভাবনা কিন্তু একদমই আমাদের নয়, বরং সংস্থার সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত ব্যক্তিবৃন্দের উদ্ধৃতির মাধ্যমে এই সকল তথ্য উঠে এসেছে।

সাপ্লায়ারদের আইফোন ১৪ সিরিজের সর্বোচ্চ ৯০ মিলিয়ন ইউনিট নির্মাণের নির্দেশ দিলো অ্যাপল (Apple asks suppliers to make 90 million units of iPhone 14)

ইন্টারন্যাশনাল ডেটা কর্পোরেশন (IDC)-এর পূর্বাভাস অনুসারে, চলতি বছরের দ্বিতীয় কোয়ার্টারে অর্থাৎ এপ্রিল থেকে জুন মাসের মধ্যে স্মার্টফোনের বাজারের বিক্রয় সূচক ৯% নেমে গিয়েছিল এবং ২০২২ সাল জুড়ে সামগ্রিকভাবে বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোনের বাজার ৩.৫% কমবে। হয়তো এই আগাম ভবিষ্যৎবাণী শুনেই অ্যাপল তাদের ১৪তম প্রজন্মের আইফোন সিরিজের বহুল সংখ্যক ইউনিট ডেভলপে সায় দিচ্ছে না। যদিও প্রিমিয়াম স্মার্টফোন সেগমেন্টে হুয়াওয়ের (Huawei) পারফরম্যান্স হতাশাজনক হওয়ায়, টিম কুক মালিকাধীন সংস্থাটির জন্য প্রতিযোগিতা এখন বহুগুন সহজ হয়ে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়াও বিগত দু’বছরের ধাক্কা এখনো পুরোপুরি সামলে উঠতে না পারায় অ্যান্ড্রয়েড ফোনের শিপমেন্ট এখনো ধীরগতিতেই চলছে। ফলে দেখতে গেলে সব দিক থেকেই লাভবান হচ্ছে অ্যাপল। যদিও এতকিছু সত্ত্বেও গ্রাহক-বেসের চাহিদাকেই অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে সংস্থাটি।

প্রসঙ্গত, ২০২১ সাল পর্যন্ত অ্যাপল তাদের আইফোনের বিক্রির পরিসংখ্যান প্রায় ৭৫ মিলিয়ন ইউনিটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছিল। কিন্তু গত বছর, কোভিড-১৯ পরিস্থিতি একটু ঠিক হওয়ার কারণে ফোনের চাহিদা বর্ধিত হতে পারে এই প্রত্যাশায় ডিভাইস প্রোডাকশন ৯০ মিলিয়ন ইউনিটে আপগ্রেড করেছিল অ্যাপল, যা এই বছরও অনুসরণ করা হবে। এই বিষয়ে ব্লুমবার্গ তাদের একটি রিপোর্টে দাবি করেছে যে, আইফোন ১৪ সিরিজ লঞ্চ হওয়ার পর স্বল্প থেকে মাঝারি মেয়াদ জুড়ে সংস্থার বিক্রির শতাংশ হয়তো ‘সিঙ্গেল ডিজিট’ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে।

যাইহোক, Apple হয়তো তাদের প্রতি বছরের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এবারও সেপ্টেম্বর মাসেই iPhone 14 সিরিজ উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে, আলোচ্য সিরিজের অধীনে মোট চারটি মডেল আসবে – iPhone 14, iPhone 14 Max, iPhone 14 Pro এবং iPhone 14 Pro Max। যার মধ্যে সিরিজের স্ট্যান্ডার্ড মডেল অর্থাৎ iPhone 14 এবং iPhone 14 Max গত বছরে আগত iPhone 13 লাইনআপের অনুরূপ এ১৫ (A15) বায়োনিক চিপ এবং ডিজাইন সহ আসবে। তবে, দুটি হাই-এন্ড মডেল অর্থাৎ iPhone 14 Pro এবং iPhone 14 Pro Max লেটেস্ট তথা তুলনায় শক্তিশালী এ১৬ (A16) বায়োনিক চিপসেট, নতুন ডিজাইন, উন্নত ক্যামেরা ফ্রন্ট অফার করতে পারে, এমনটাই গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।

আরও পড়ুন