ব্যাঙ্কে জমানো টাকায় হ্যাকার হানা কীভাবে আটকাবেন, দেখে নিন HDFC-এর এই চারটি টোটকা

কীভাবে নিরাপদে অনলাইন ব্যাংকিং করা যেতে পারে সে সম্পর্কেও ইউজারদের সুবিধার্থে এইচডিএফসি ব্যাংক কিছু টিপস শেয়ার করেছে

সাম্প্রতিককালে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে বেশিরভাগ মানুষই নগদ লেনদেন এড়িয়ে ডিজিটাল পেমেন্টের দিকে ঝুঁকেছেন, ফলে অনলাইন ব্যাংকিংয়ের ব্যবহার ব্যাপক পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ক্রমাগত মাথাচাড়া দিয়ে বেড়ে উঠছে সাইবার জালিয়াতি। করোনার সঙ্গে লড়াই করতে করতে সারা দেশের মানুষের যখন নাজেহাল অবস্থা, সেই পরিস্থিতিতেও ক্রমাগত শক্তি বৃদ্ধি করে চলেছে সাইবার অপরাধীরা। আর তাই সাইবার জালিয়াতির শিকার হয়ে ইউজারদের কষ্টার্জিত অর্থ অকালে খোয়ানোর ঘটনা প্রায়শই খবরের শিরোনামে থাকছে।

এই কারণেই বেশ কিছু রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের তরফ থেকে ইতিমধ্যেই তাদের গ্রাহকদের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। এবার এই তালিকায় নবতম সংযোজন এইচডিএফসি ব্যাংক (HDFC Bank)। সম্প্রতি তারা সাইবার জালিয়াতি সম্পর্কে তাদের অ্যাকাউন্ট হোল্ডারদের সতর্ক করেছে। শুধু তাই নয়, কীভাবে নিরাপদে অনলাইন ব্যাংকিং করা যেতে পারে সে সম্পর্কেও ইউজারদের সুবিধার্থে এইচডিএফসি ব্যাংক কিছু টিপস শেয়ার করেছে। এই প্রতিবেদনে আমরা সেগুলির উপরই বিশদে আলোকপাত করব।

সম্প্রতি ফেস্টিভ সিজনকে কেন্দ্র করে প্রায় সবকটি ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মই ইউজারদের সুবিধার্থে সেল নিয়ে হাজির হয়েছে। ফলস্বরূপ অনলাইন শপিং, ই-ট্রানজ্যাকশন এবং ইন্টারনেট ব্যবহারের পরিমাণ বিপুল পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। আর সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করে তাদের কষ্টার্জিত অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার জন্য এটাই হল সাইবার হ্যাকারদের সবচেয়ে ভালো সময়। এছাড়া ভুয়ো ইমেইল বা ফোন কলের মাধ্যমে ইউজারকে বিভিন্ন উপায়ে প্রলুব্ধ করে পরবর্তীকালে প্রতারিত করার ঘটনা তো আমরা প্রায়শই শুনে থাকি।

সাধারণত কোনো ব্যাংকার, বীমা এজেন্ট, স্বাস্থ্যসেবা কর্মী, টেলিকম কর্মী, বা কোনো সরকারি কর্মকর্তা হওয়ার ভান করে প্রতারকরা ইউজারদের ফোন বা ইমেইলের মাধ্যমে প্রতারিত করার চেষ্টা করে। নতুন জব অফার, অ্যাকাউন্ট ব্লক, KYC ফর্ম ফিল-আপ বা কোনো জরুরীকালীন পরিস্থিতির টোপ ফেলে তারা অকস্মাৎ ইউজারদের ফোন বা ইমেইল করে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে এবং এমন কিছু জরুরী পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেয় যার ফলে ইউজাররা সেই পরিস্থিতিতে প্রতারক যা বলে তাই করতে বাধ্য হয়। আর এই সুযোগে হ্যাকাররা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে তাদের KYC ইনফরমেশন, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ডিটেলস বা কিছু প্রয়োজনীয় OTP জেনে নেয়। তারপর ইউজারদের অ্যাকাউন্টে ধীরে ধীরে ফাঁকা হতে থাকে সেকথা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই এই ধরনের সাইবার জালিয়াতির শিকার হওয়া থেকে বাঁচতে এইচডিএফসি ব্যাংক কর্তৃক শেয়ার করা নীচে উল্লিখিত এই ৪ টি টিপস সর্বদা অনুসরণ করে চলুন। এইচডিএফসি ব্যাংকের চিফ মার্কেটিং অফিসার রবি সান্থানাম (Ravi Santhanam) এক বিবৃতিতে বলেছেন যে, “আপনি যদি সতর্ক থাকেন এবং এই সহজ স্টেপগুলি অনুসরণ করেন, তাহলে আপনার অর্থ আপনার কাছে সুরক্ষিত ও নিরাপদ থাকবে।”

১. আপনার PIN বা OTP কখনোই কারোর সাথে শেয়ার করবেন না

প্রায়শই জালিয়াতরা ইউজারদের কোনো আকর্ষণীয় পুরস্কারের (মোটা অঙ্কের টাকা) লোভ দেখিয়ে PIN বা OTP তাদের সাথে শেয়ার করতে বলে। কিন্তু সবসময় মনে রাখবেন যে, আপনার অ্যাকাউন্টে কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা ক্রেডিট করতে হলে কখনোই PIN বা OTP-র প্রয়োজন হয় না। তাই যদি কেউ টাকা দেওয়ার অছিলায় আপনার কাছ থেকে PIN বা OTP চায়, তাহলে তখনই আপনাকে বুঝে নিতে হবে যে সেখানে নিশ্চয়ই কোনো গন্ডগোল আছে। এবং অজানা কোনো সোর্স বা ব্যক্তির সাথে কখনোই এই ধরনের ব্যক্তিগত জিনিসগুলি শেয়ার করবেন না।

  1. অজানা সোর্স থেকে আসা লিঙ্কে ক্লিক করবেন না

মনে রাখবেন যে, কোনো জিনিস চকচক করলেই তা সোনা নয়। প্রায়শই ইউজারদের ফোনে বেশ কিছু লোভনীয় অফারসমেত ইমেইল বা এসএমএস আসে, যেখানে আকর্ষণীয় পুরস্কার জিতে নেওয়ার জন্য ইউজারদের সেই ইমেইল বা এসএমএসে উল্লিখিত লিঙ্কে ক্লিক করতে বলা থাকে। কিন্তু ভুলবশত সেই লিঙ্কে ক্লিক করা মাত্রই ইউজারদের ফিশিং ওয়েবসাইটে রিডাইরেক্ট করা হয়, যার ফলে তাদের পার্সোনাল ডিটেলসের অ্যাক্সেস হ্যাকাররা পেয়ে যেতে পারে। তাই ভুলেও কখনো অজানা সোর্স থেকে আসা কোনো লিঙ্কে ক্লিক করবেন না।

  1. শুধুমাত্র অফিসিয়াল ব্যাংক ওয়েবসাইট ব্যবহার করুন

হ্যাকাররা যখন কোনো রেজিস্টার্ড সংস্থার কর্মচারী হওয়ার ভান করে ইউজারদের ভুয়ো ইমেইল বা এসএমএস করে, তখন তারা সেখানে যে ওয়েবসাইটের কথা উল্লেখ করে সেটি হুবহু আসল সংস্থাটির মতোই হয়, যাতে ইউজারদের মনে কোনো সন্দেহ না দেখা দেয়। সেইসাথে কিছু ভুলভাল কাস্টমার কেয়ার নম্বরও দেওয়া থাকে। তাই যে কোনো ওয়েবসাইট ব্যবহার করার সময় সংস্থার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটটিই ব্যবহার করছেন কি না সে সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নিন। আর কাস্টমার কেয়ার নম্বরে ফোন করলে সংস্থার কোনো ব্যক্তিই আপনার সাথে কথা বলছে কি না সে বিষয়টিও যাচাই করে নেওয়া উচিত।

  1. অজানা পোর্টালে কখনও অর্থ প্রদান করবেন না

প্রতারকরা সাধারণত অফিসিয়াল ওয়েবসাইটগুলি ক্লোন করার চেষ্টা করে, যেখানে গ্রাহকদের সাধারণত রেজিস্ট্রেশনের সময় তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিবরণ, ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড ইত্যাদি শেয়ার করতে হয়। এর ফলে সাইবার জালিয়াতির সম্ভাবনা আরও বিপুল পরিমাণে বৃদ্ধি পায়। তাই যদি কোনো অজানা পোর্টালে আপনাকে পেমেন্ট করতে বলা হয় তাহলে টাকা দেওয়ার আগে সেই ওয়েবসাইটটির লোগো, UI এবং অন্যান্য যাবতীয় ডিটেলস বিশদে যাচাই করে দেখুন এবং নিশ্চিত হয়ে নিন যে সেই ওয়েবসাইটটি আসল না কেবলমাত্র একটি ক্লোন।