নতুন স্মার্টফোন কিনবেন? এই গুরুত্বপূর্ণ ১০টি সেন্সর আছে কিনা অবশ্যই দেখে নেবেন

ফোনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ১০টি সেন্সর এবং তাদের কার্যাবলী জেনে নিন

এখনকার অধিকাংশ মানুষেরই দৈনন্দিন জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, প্রয়োজনীয় এবং অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হল স্মার্টফোন। শুধু মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার জন্যই নয়, এখন আরও বহুবিধ কার্য সম্পাদনের জন্য এই যন্ত্রটি ব্যবহার করা হয়। আপনি কত পা হাঁটলেন তা ট্র্যাক করা থেকে শুরু করে আপনার হৃদস্পন্দন পর্যবেক্ষণ করা, মানসিক চাপের মাত্রা নির্ধারণ করা সহ আরও একাধিক কাজ এখন এই স্মার্টফোনই করতে সক্ষম। কিন্তু কখনো ভেবে দেখেছেন কি যে এই এত কাজ স্মার্টফোন কীভাবে করছে? তার কারণ হল অভ্যন্তরীণ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পার্টসের পাশাপাশি স্মার্টফোনে বেশ কিছু সেন্সর রয়েছে, যা ডিভাইসটিকে এই সকল কার্যাবলী সম্পাদন করতে সক্ষম করছে। আপনি যেভাবে আপনার ফোনটি ধরে আছেন, সেই অনুযায়ী কোনো ভিডিও বা ফটো ঘুরে যাওয়ার জন্যও দায়ী এই সেন্সর। আপনার ফোনের ফেস আইডি এবং ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানারেও সেন্সর রয়েছে। তাই একটি বহুবিধ কার্যক্ষম স্মার্টফোনের অর্থ হল তাতে একাধিক কার্যকর সেন্সর রয়েছে। এখানে আমরা আপনার ফোনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ১০ টি সেন্সর এবং তাদের কার্যাবলী সম্পর্কে আলোচনা করব।

প্রক্সিমিটি সেন্সর (Proximity sensor)

নাম থেকেই বোঝা যায়, যখন কোনো বস্তু ফোনের কাছাকাছি থাকে তখন প্রক্সিমিটি সেন্সর সেগুলিকে সনাক্ত করে। একটি স্মার্টফোনে এর সর্বাধিক সাধারণ ব্যবহার হল, কল চলাকালীন স্মার্টফোনটি কানের কাছে ধরে রাখলে ডিসপ্লেটি বন্ধ করা। এটি অপ্রয়োজনীয় এবং দুর্ঘটনাজনিত টাচ এড়াতে সহায়তা করার পাশাপাশি ব্যাটারি সংরক্ষণেও সহায়তা করে।

অ্যাক্সিলেরোমিটার (Accelerometer)

অ্যাক্সিলেরোমিটার স্মার্টফোনগুলিকে ডিভাইসের অভিমুখীতা (orientation) নির্ধারণ করতে সহায়তা করে। স্মার্টফোনগুলিতে এই সেন্সরের প্রধান কাজ হল স্মার্টফোনটি পোর্ট্রেট বা ল্যান্ডস্কেপ মোডে রাখা হচ্ছে কি না তা সনাক্ত করা এবং সেই অনুযায়ী স্ক্রিনে কন্টেন্টটি উপস্থাপন করা। এই সেন্সরের জন্যই YouTube-এ একটি ভিডিও বা গ্যালারিতে একটি ছবি দেখার সময় আপনি কীভাবে স্মার্টফোনটি ধরে আছেন তার ওপর নির্ভর করে ছবি বা ভিডিওটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পোর্ট্রেট থেকে ল্যান্ডস্কেপে বা তদ্বিপরীতভাবে ঘুরে যায়।

জাইরোস্কোপ (Gyroscope)

জাইরোস্কোপ সেন্সর স্মার্টফোনে অ্যাক্সিলেরোমিটার সেন্সরের সাথে কাজ করে। এটি রোটেশন বা টুইস্টের মতো আরও ভালো মোশন ডিটেকশনের জন্য মুভমেন্টের একটি অ্যাডিশনাল ডাইমেনশন অফার করে। জাইরোস্কোপ হল সেই সেন্সর যা আমাদের স্মার্টফোনে আমরা যে ইমার্সিভ ৩৬০ ডিগ্রি ফটোগুলি দেখি তার জন্য দায়ী। এছাড়াও, রেসিং গেমের মতো কোনো সেনসিটিভ গেম খেলার সময় প্লেয়ারদের বাম দিকে বা ডান দিকে মুভ করতে এই সেন্সরটি সাহায্য করে।

ডিজিটাল কম্পাস (Digital compass)

ডিজিটাল কম্পাস পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রসঙ্গে স্মার্টফোন ওরিয়েন্টেশন ডেটা সরবরাহ করে। এটি স্মার্টফোনকে উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব বা পশ্চিমের মতো রিয়েল-ওয়ার্ল্ড ডাইরেকশন বুঝতে সক্ষম করে। এটি ম্যাগনেটোমিটারের ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। স্মার্টফোনে কম্পাস বা ম্যাপস ব্যবহার করার সময় এই সেন্সরটি ইউজারদের সর্বাপেক্ষা সহায়ক হয়।

জিপিএস (GPS)

GPS-এর অর্থ হল গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম টেকনোলজি। এটি স্যাটেলাইট থেকে ইনপুটের ওপর ভিত্তি করে আপনার বর্তমান অবস্থান বা আপনি যে জায়গা দিয়ে গাড়ি চালাচ্ছেন সে সম্পর্কে তথ্য সরবরাহ করে। এটি স্মার্টফোনের ডেটার উপর নির্ভরশীল নয় এবং সেজন্য আপনি আপনার স্মার্টফোনে ইন্টারনেট কানেকশন না থাকলেও আপনার ম্যাপ ব্যবহার করতে পারবেন।

ব্যারোমিটার (Barometer)

স্মার্টফোনে ব্যারোমিটারের মূলত দুটি প্রধান কাজ রয়েছে। প্রথমত, এটি অল্টিটিউড ডেটা প্রোভাইড করে দ্রুত লোকেশন লক করার জন্য স্মার্টফোনে একটি GPS চিপ সরবরাহ করে, এবং দ্বিতীয়ত, এটি বায়ুমণ্ডলীয় চাপ পরিমাপ করার জন্য একটি যন্ত্র হিসেবে কাজ করে যা হেলথ অ্যাপ্লিকেশনে ফ্লোর ক্লাইম্বিং ইনফর্মেশন পরিমাপ করতে বা টেম্পারেচার রিডিং নিতে সহায়তা করে।

বায়োমেট্রিক (Biometric)

স্মার্টফোনে ফিঙ্গারপ্রিন্ট, IRIS, ফেসিয়াল ডেটার মতো অন্যান্য বায়োমেট্রিক রিডিংগুলি নেওয়ার ক্ষেত্রে এই সেন্সরটি মূলত ব্যবহৃত হয়। প্রধানত একটি স্মার্টফোন আনলক করা বা পেমেন্ট অথেন্টিকেট করার ক্ষেত্রে এই সেন্সরটি কাজে লাগে। এই সেন্সরটি SpO2 রিডিং, হার্ট রেট ইত্যাদির মতো অন্যান্য ডেটা রেকর্ড করতেও ব্যবহার করা যেতে পারে।

এনএফসি NFC

NFC-এর অর্থ হল নিয়ার-ফিল্ড কমিউনিকেশন, যা NFC যুক্ত দুটি ডিভাইসকে ১০ সেমি দূরত্বের মধ্যে কমিউনিকেট করতে সক্ষম করে। এটি ডেটা স্থানান্তরের জন্য স্মার্টফোনগুলিতে এবং কন্টাক্টলেস পেমেন্টের জন্য Google Pay, Apple Pay এবং Samsung Pay-র মতো পেমেন্ট অ্যাপ্লিকেশনগুলির দ্বারা ব্যবহৃত হয়। এটি রেগুলার RFID বা ব্লুটুথের চেয়েও বেশি সুরক্ষিত।

পেডোমিটার (Pedometer)

পেডোমিটার যে কোনো ডিজিটাল ডিভাইসে স্টেপ ডেটা সরবরাহ করে। এটি স্মার্টফোনের পাশাপাশি স্মার্ট ওয়্যারেবেল ডিভাইসগুলিতেও উপলব্ধ। এটি হেলথ অ্যাপগুলিতেও স্টেপ কাউন্ট অ্যাকিউরেসি ইমপ্রুভ করতে সহায়তা করে।

অ্যাম্বিয়েন্ট লাইট সেন্সর (Ambient light sensor)

অ্যাম্বিয়েন্ট লাইট সেন্সর একটি ফটোডিটেক্টর যা আশেপাশের আলোর তীব্রতা সনাক্ত করে এবং স্ক্রিনের ব্রাইটনেস অ্যাডজাস্ট করে। স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, টিভি এবং অটোমোটিভ ডিসপ্লেতে এই সেন্সরটি খুব জনপ্রিয় ও ভীষণভাবে কার্যকর। এছাড়া, গাড়ির অটো-ডিমিং মিররেও এই একই সেন্সর ব্যবহৃত হয়।

হোয়াটসঅ্যাপে খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন