Vivo V40 কেনার জন্য অপেক্ষা করবেন? ক্যামেরা থেকে ডিসপ্লে, ব্যাটারি অসাধারণ

ভিভো সম্প্রতি ইউরোপের বাজারে ভিভো ভি৪০ স্মার্টফোনের ঘোষণা করেছে। এটি গত মে মাসে চীনে লঞ্চ হওয়া ভিভো এস১৯ মডেলের টুইকড ভার্সন হিসাবে এসেছে। এখন মনে হচ্ছে এই একই ডিভাইস ভারতেও আত্মপ্রকাশ করবে। আসলে এই হ্যাডসেটটি হালফিলে ‘ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডস’ (বিআইএস) সাইটে উপস্থিত হয়েছে। এই সার্টিফিকেশন সাইটের লিস্টিং স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ভি-সিরিজের এই স্মার্টফোনের আগমন খুব শীঘ্রই এদেশে ঘটবে। ফলে যারা নতুন স্মার্টফোন কেনার পরিকল্পনা করছেন তারা অনেকেই হয়তো এই খবর পেয়ে কয়েকটা দিন অপেক্ষা করে যাবেন। আবার কেউ কেউ প্রশ্ন করতেই পারেন যে – ‘ভিভো ভি৪০ ফোনে এমন কী ফিচার আছে যে এতদিন অপেক্ষা করে যাবো?’ এই প্রশ্নের উত্তর আপনারা আমাদের এই প্রতিবেদনে পেয়ে যাবেন। এখানে আমরা ভারতে আসন্ন এই প্রিমিয়াম মিড-রেঞ্জ স্মার্টফোনের বিশেষত্বগুলি তুলে ধরবো।

১. সবথেকে আকর্ষণীয় হল ক্যামেরা বিভাগ :

ভিভো ভি৪০ ফোনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল এর ক্যামেরা সেটআপ। এতে এফ/১.৮৮ অ্যাপারচার, অপটিক্যাল ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন (ওআইএস) এবং ৮৪° ফিল্ড-অফ-ভিউ সহ ৫০ মেগাপিক্সেলের জেইস অপটিক্স প্রাইমারি ক্যামেরা আছে। সাথে সহায়ক ক্যামেরা হিসাবে – ৫০ মেগাপিক্সেলের জেইস কো-ইঞ্জিনিয়ার্ড আল্ট্রা-ওয়াইড অ্যাঙ্গেল লেন্স দেওয়া হয়েছে, যা এফ/২.০ অ্যাপারচার, ১১৯° ফিল্ড-অফ-ভিউ এবং অটোফোকাস সাপোর্ট করে। এদিকে ডিভাইসের সামনে এফ/২.০ অ্যাপারচার ও ৯২° ফিল্ড-অফ-ভিউ সহ ৫০ মেগাপিক্সেল অটোফোকাস গ্রুপ সেলফি ক্যামেরা রয়েছে। ভিডিও রেকর্ডিংয়ের ক্ষেত্রে, রিয়ার ক্যামেরাগুলির মাধ্যমে ৩০ ফ্রেম-পার-রেটের সাথে সর্বোচ্চ ৪কে রেজোলিউশনে রেকর্ডিং করা যাবে। এক্ষেত্রে জাইরো-এআইএস স্টেবিলাইজেশনের সুবিধা পাওয়া যাবে। সেলফি ক্যামেরাও অনুরূপ ফিচারের সাথে ভিডিও রেকর্ড করতে পারে।

২. বিভ্রান্তিকর হার্ডওয়্যার সংমিশ্রণ :

ভিভো ভি৪০ ফোনে কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৭ জেন ৩ প্রসেসর ব্যবহার করা হয়েছে। এই একই প্রসেসর পূর্বসূরি ভিভো ভি৩০ -তেও উপস্থিত। ফলে ধরেই নেওয়া যায়, উত্তরসূরি ও পূর্বসূরির পারফরম্যান্স একরকম থাকবে। নয়া ভিভো হ্যান্ডসেটে এলপিডিডিআর৪এক্স র‍্যাম এবং ইউএফএস ২.২ স্টোরেজ পাওয়া যাবে। জানিয়ে রাখি, এই র‌্যাম এবং স্টোরেজ সংমিশ্রণ সাধারণত বাজেট-রেঞ্জের ডিভাইসে দেখা যায়। তাই এটা আমাদের কাছে স্পষ্ট নয়, কেন ভিভো তাদের প্রিমিয়াম মিড-রেঞ্জ ফোনের স্টোরেজ আপগ্রেড করলো না। এর জন্য সেগমেন্টের অন্যান্য ব্র্যান্ডের মডেলগুলি প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাবে।

৩. ডিজাইন এবং ডিসপ্লে :

ভিভো ভি৪০ ফোনের ডিজাইন হল দুর্দান্ত। এটি স্লিক বডি যুক্ত। ডিভাইসটি ৭.৫৮ মিমি পুরু এবং ওজনে মাত্র ১৯০ গ্রাম। এই ফোন রাউন্ডেড এজ এবং গ্লাস ব্যাক প্যানেলের সাথে এসেছে। এটি – স্টেলার সিলভার এবং নেবুলা পার্পল নামে দুটি আকর্ষণীয় কালারে এসেছে। এই হ্যান্ডসেট জল প্রতিরোধের জন্য আইপি৬৮ রেটিং প্রাপ্ত। এক্ষেত্রে ১.৫ মিটার গভীর জলে ডুবে থাকলেও ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।

ভিভো ভি-সিরিজের এই লেটেস্ট মডেলে রয়েছে ৬.৭৮-ইঞ্চির ১.৫কে (২৮০০×১২৬০ পিক্সেল) কার্ভড অ্যামোলেড ডিসপ্লে, যা ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট, ৪৫০০ নিট পিক ব্রাইটনেস, এবং এইচডিআর১০+ প্রযুক্তি সাপোর্ট করে। সিকিউরিটি ফিচার হিসাবে এতে ইন-ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর দেওয়া হয়েছে।

৪. বড় ব্যাটারি এবং ফাস্ট চার্জিং :

এই ফোনে ৫,৫০০ এমএএইচ ক্যাপাসিটির ব্যাটারি আছে, যা ৮০ ওয়াট ওয়ারড ফাস্ট চার্জিং সাপোর্ট করে। এই ব্যাটারি প্রায় ৪৮ মিনিটের মধ্যে ডিভাইসকে ফুল চার্জ করতে সক্ষম। উল্লেখযোগ্যভাবে, ডিভাইসটি ফাস্ট চার্জিং প্রযুক্তির পাশাপাশি ইউএসবি-পিডি চার্জিংও সাপোর্ট সাপোর্ট করে। এক্ষেত্রে পিডি চার্জার কমপক্ষে ৮০ ওয়াট চার্জিংয়ের সুবিধা অফার করে।

সিদ্ধান্ত :

ভিভো ভি৪০ ফোনে যথেষ্টই ভাল ক্যামেরা সেটআপ রয়েছে। বিশেষ করে এতে গ্রুপ সেলফির সুবিধা থাকায় ব্যবহারকারিরা বিশেষ উপকৃত হবেন। অতএব ভালো সেলফি ও রিয়ার ক্যামেরার চাহিদা থাকলে এই হ্যান্ডসেট কেনার কথা বিবেচনা করতে পারেন।

ডিভাইসটির হার্ডওয়্যার কম্বিনেশন যা আছে তাতে দৈনন্দিন কাজগুলি সুচারুভাবে পরিচালনা করতে সক্ষম। এমনকি হালকা গেমিংয়ের জন্যও ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে হাই ফ্রেম রেটের ভারী গেম চালানো যাবে না।

এই বছর ৭ই মার্চ লঞ্চ হওয়া ভিভো ভি৩০ ফোনের সাথে এর উত্তরসূরি তথা ভারতে আসন্ন ভিভো ভি৪০ মডেলের মিল অনেক, ছোটোখাটো কিছু আপগ্রেডেশন বাদে। তাই নয়া ফোন আত্মপ্রকাশের পর যদি ভিভো ভি৩০ -এর দাম কমানো হয়, তবে আমরা টাকা সাশ্রয় করে বিদ্যমান মডেল কেনার পরামর্শ দেব।

এদিকে এই মুহূর্তে ভিভো ভি৪০ ফোনের ভারতে লঞ্চের তারিখ সম্পর্কে কিছু জানা সম্ভব হয়নি। তবে কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে, ব্র্যান্ডটি হয়তো চলতি মাসের শেষের দিকে অথবা আগস্টে এটি লঞ্চ করবে।