কোর্টে গিয়েও শেষরক্ষা হল না, 10 লক্ষ টাকা জরিমানা দিতে হবে BSNL-কে

বিল পরিশোধ না করলেও BSNL দীর্ঘদিন ধরে এক গ্রাহককে পরিষেবা সরবরাহ করে চলেছিল

BSNL Fined rs 10.5 lakh

সরকারি মালিকানাধীন টেলিকম কোম্পানি Bharat Sanchar Nigam Limited বা BSNL-কে সম্প্রতি এক ডিলারের জামানত বাজেয়াপ্ত করার জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে, এবং এর জন্য কমার্শিয়াল কোর্ট সংশ্লিষ্ট ডিলারকে ১০.৫ লক্ষ টাকা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিকম সংস্থাটিকে। জানা গিয়েছে, বিল পরিশোধ না করলেও BSNL দীর্ঘদিন ধরে এক গ্রাহককে পরিষেবা সরবরাহ করে চলেছিল। TNN-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, আদালত বিশ্বাস করে যে, বিল পরিশোধ না করা গ্রাহককে পরিষেবা সরবরাহ করা ডিলারের দোষ নয়। সুতরাং, ডিলারের সিকিউরিটি ডিপোজিট বাজেয়াপ্ত করা এই ক্ষেত্রে মোটেই সঠিক ছিল না, আর সেই কারণেই BSNL-কে হালফিলে এই জরিমানার মুখোমুখি হতে হয়েছে। আসুন বিষয়টির সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

ডিলারের জামানত বাজেয়াপ্ত করায় ১০.৫ লক্ষ টাকা জরিমানার মুখে BSNL

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০২ সালে বিএসএনএল এবং প্রদীপ পোখরিয়াল (Pradeep Pokhriyal) একটি চুক্তি করেছিলেন, যেখানে প্রদীপকে পাঁচ লক্ষ টাকার সিকিউরিটি ডিপোজিট দেওয়ার পরে দুই বছরের জন্য মোবাইল পরিষেবা বিপণন ও বিতরণের জন্য ডিলারশিপ বরাদ্দ করা হয়েছিল। তবে বিএসএনএল এই সময়ের মধ্যে সুরেন্দ্র রতওয়াল (Surendra Ratwal) নামে এক ব্যবহারকারীকে একটি ফোন নম্বর জারি করেছিল। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে কিছুদিন বাদে রতওয়াল বিল পরিশোধ করা বন্ধ করে দেন, এবং তার বকেয়ার পরিমাণ ৪.১৬ লক্ষ টাকায় গিয়ে পৌঁছোয়। এই কারণে বিএসএনএল চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে পোখরিয়ালের যে সিকিউরিটি ডিপোজিট পাওয়ার কথা ছিল, তা বাজেয়াপ্ত করে।

তবে বিএসএনএলের এই সিদ্ধান্তে চূড়ান্ত অখুশি হয়ে মামলাটির যথাযথভাবে মীমাংসা হওয়ার আশায় পোখরিয়াল হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। আদালত আলোচ্য সমস্যাটির সমাধানের জন্য অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ পিসি আগরওয়াল (PC Aggarwal)-কে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিযুক্ত করে। ঘটনাটির আদ্যোপান্ত পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করার পর অবশেষে আদালত পোখরিয়ালেরই সুযোগ্য বিচার পাওয়া উচিত বলে মনে করে, আর সেজন্য বিএসএনএলকে ১০.৫ লক্ষ টাকা জরিমানার মুখে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে সরকারি মালিকানাধীন টেলিকম কোম্পানিটি আদালতের এই সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট হয়নি, যে কারণে তারা পরবর্তীকালে কমার্শিয়াল কোর্টে পূর্বের ফয়সালাকে চ্যালেঞ্জ করে।

কমার্শিয়াল কোর্টের শরণাপন্ন হলেও শেষরক্ষা করা গেল না

তবে কমার্শিয়াল কোর্টের দ্বারস্থ হয়েও কিন্তু বিশেষ কিছু সুবিধা করতে পারেনি BSNL। কারণ কমার্শিয়াল কোর্টও মনে করে যে, গ্রাহককে মোবাইল ফোনের কানেকশন দেওয়ার আগে তার ঠিকানা যাচাই করে নেওয়া রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিকম সংস্থাটিরই দায়িত্ব ছিল। সেক্ষেত্রে বিল পরিশোধ না করার পরেও BSNL কীভাবে ১৮ মাস ধরে সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীকে পরিষেবা সরবরাহ করে চলেছে, তা জেনে আদালত রীতিমতো বিস্মিত হয়ে যায়। ফলে স্বভাবতই কমার্শিয়াল কোর্টও পোখরিয়ালের পক্ষেই কথা বলে এবং সেই কারণে সরকারি মালিকানাধীন টেলিকম কোম্পানিটিকে ১০.৫ লক্ষ টাকা জরিমানার নির্দেশ দেয়।