ফোন রুট কী ? এর সুবিধা ও অসুবিধা জেনে নিন

আপনি যে অ্যান্ড্রয়েড ফোনটি ব্যবহার করছেন,তা চালিত হয় অপারেটিং সিস্টেম দ্বারা,যা মূলত বাণিজ্যিক ও কোন ব্যক্তির নিজস্ব ব্যবহারের জন্য ডিজাইন করা হয়।সেই জন্য অনেক কিছু ফিচার বন্ধ করা থাকে ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য বা সাধারণ ইউজাররা যাতে অপারেটিং সিস্টেমের কোন ক্ষতি করতে না পারে। কিন্তু Rooting প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এইসব লিমিটেশন সরিয়ে দেওয়া যায়। যার মাধ্যমে ইউজাররা অপারেটিং সিস্টেমের সমস্ত সুবিধা ব্যবহার করতে পারে ও ফোনের পারফরম্যান্স ও পরিবর্তন করা যায়।

তবে Rooting এর কিছু অসুবিধাও আছে :

● Rooting এর ফলে কোন ফোনের ওয়ারেন্টি শেষ হয়ে যায়,যার ফলে সেই ফোনটি ওয়ারেন্টি পিরিয়ডের মধ্যে আর বিনামূল্যে সার্ভিস করা যায় না।
● Rooting এর ফলে আপনার ফোনটিতে “bricking” এর সমস্যা হতে পারে।”bricking” কথাটার মাধ্যমে বুঝতে পারছেন ফোনটি একদমই ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পরবে।
●অনেক ইউজাররা Root করে ফোনের পারফরম্যান্স বাড়ানোর জন্য। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে কিছু ইউজারদের ফোনের পারফরম্যান্স Root করার পর খারাপ হয়ে যায় এবং অনেক ফিচার কমে যায়।
● অ্যান্ড্রয়েড সিস্টেমের অন্যতম সুবিধা হল সহজে ভাইরাস আক্রমন হয় না,কিন্ত Rooting এর পর অনের ইউজাররাই Custom Rom ব্যবহার করতে চান,যার ফলে সফটওয়্যার কোড পরবর্তন হতে পারে,ফলে ফোনে ভাইরাস আক্রমনের সম্ভাবনা দেখা যেতে পারে।

এই অবধি পড়ার পর যদি ভাবছেন না Rooting খুব খারাপ জিনিস,তাহলে জেনে নিন এর সুবিধা :

● অনেক সময় প্লে স্টোর এমন অনেক আ্যপ দেখে থাকবে যা ইনস্টল করতে গেলে দেখায় আপনার ডিভাইসে সাপোর্ট করবে না Rooting করলে এই সমস্ত আ্যপ ডাউনলোড করা সম্ভব হবে।
●অনেক ফোনের বেশকিছু অপ্রয়োজনীয় প্রি ইনস্টল আ্যপ থাকে যা ফোনের বেশীর ভাগ মেমরি ব্যবহার করে থাকে, Rooting এর মাধ্যমে এইসব অপ্রয়োজনীয় প্রি ইনস্টল আ্যপ সরিয়ে দেওয়া যায়।
●প্লে স্টোর থেকে আ্যপ ফোনের ইন্টারনাল স্টোরেজে ডাউনলোড হয়।কিন্তু rooting করলে ইন্টারনাল স্টোরেজ থেকে সেই আ্যপ এসডি কার্ডে সরিয়ে নেওয়া যায়।তাই ইন্টারনাল স্টোরেজ ফাকা থাকে যা অন্য কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে।
● সব কিছুরই যেমন ভালো ও মন্দ দিক আছে সেরকম,Custom Rom এর ও,Root করা। ফোনের সব থেকে আকর্ষনীয় ফিচার হল Custom Rom । হাজারেরও বেশি Custom Rom আছে যার মাধ্যমে ফোনের পারফরম্যান্স বাড়াতে পারেন,এমনকি ফোনের সম্পূর্ণ লুক পরিবর্তন করতে পারেন এবং আরো অনেক কিছু।

তাই Root করবেন কিনা সেটা অবশ্যই ভেবে করুন এবং তার জন্য একটু পড়াশোনা করে নিন,তবে যদি কোন পুরনো ফোন আপনার কাছে থাকে,সেটিকে root করে একটু পরীক্ষা করেই নিতে পারেন।

পড়ুন : কিভাবে বুঝবেন আপনার ফোন আসল নাকি নকল ? শিখে নিন

Last Updated on