ভুঁয়ো খবর ছড়ানো রুখতে নতুন ওয়েবসাইট আনছে Twitter

twitter-to-launch-new-website-to-fight-against-fake-news.jpg

সামাজিক মাধ্যমে ভুল তথ্য এবং সংবাদ পরিবেশন আজ নৈমিত্তিক ঘটনা। এভাবেই সুযোগসন্ধানী মানুষ বা প্রতিষ্ঠানগুলি নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করে থাকে। এই প্রবণতা মারাত্মক যার থেকে ফেসবুক (Facebook) বা টুইটারের (Twitter) মতো বহুব্যবহৃত প্ল্যাটফর্মেরও নিষ্কৃতি নেই। এতদিন পর্যন্ত সোশ্যাল সাইটে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ভুঁয়ো খবর ছড়ানোর বিরুদ্ধে নেটাগরিকদের সম্মিলিত শুভবুদ্ধিই ছিলো মুখ্য হাতিয়ার। তবে এবার অনেকটা অগ্রসর হয়ে Twitter ভুঁয়ো ও অসত্য রটনার বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা করতে চলেছে। এজন্য তারা Birdwatch নামক একটি পাইলট প্রকল্পের ওপর কাজ শুরু করেছে। এই বার্ডওয়াচ মূলত একটি নতুন ওয়েবসাইট। এটির মাধ্যমে টুইটার ব্যবহারকারীরা ভ্রান্ত সংবাদগুলিকে চিহ্নিত করতে পারবেন। কোন খবর অসত্য মনে হলে সেক্ষেত্রে তারা পোস্টের সঙ্গে সঠিক তথ্য পরিপূর্ণ একটি টীকা জুড়ে দিতে পারেন। এর ফলে ভুল সংবাদ পরিবেশনের প্রবণতাকে খুব সহজেই রুখে দেওয়া যাবে।

টুইটারের প্রোডাক্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট কেইথ কোলম্যান সর্বপ্রথম তাদের পাইলট প্রোজেক্টটির কথা প্রকাশ্যে নিয়ে আসেন। আপাতত এ সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ প্রথমাবস্থায় রয়েছে। বার্ডওয়াচের বিষয়ে বলতে গিয়ে কোলম্যান জানিয়েছেন, পোস্টে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংযোজনের পাশাপাশি বার্ডওয়াচের “অগ্রণী সদস্যেরা উপযোগিতা অনুসারে সেই টীকাগুলিকে নির্দিষ্ট রেটিং প্রদান করতে পারবেন।”

বার্ডওয়াচের নির্মাতারা তাদের এই প্রকল্পের বিষয়ে যথেষ্ট আশাবাদী। তারা মনে করছেন এটি অসংখ্য বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও সাধারণ মানুষকে নিজের প্রতি আকৃষ্ট করবে। এঁদের বিশ্লেষণাত্মক জ্ঞানের দ্বারা বার্ডওয়াচ ইউজার সহ বিশ্বের তামাম নেটিজেন ব্যাপকভাবে উপকৃত হবেন। এই পথেই হয়তো খুব দ্রুত গতিতে সমষ্টি-ভিত্তিক কার্যকর সমাধানের একটা বিশাল দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

যদিও সমষ্টি-চালিত যে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা কঠিন কাজ বলে কোলম্যান মেনে নিয়েছেন – ” আমরা জানি যে এই কাজ অত্যন্ত কঠিন ও বিরোধিতা পূর্ণ। এই উদ্যোগ যাতে শুধুমাত্র পক্ষপাত দুষ্ট সংখ্যাগুরু জনতার দ্বারা পরিচালিত না হয়, সেটা আমাদের সুনিশ্চিত করতে হবে।” সন্দেহ নেই যে কোলম্যানের এই মন্তব্য বাস্তবায়িত হলে তা সামাজিক মাধ্যমে ভ্রান্ত তথ্য এবং খবরের পরিবেশনকে অনেকটাই প্রতিহত করবে।

ঠিক কবে থেকে এই নতুন ওয়েবসাইটটি তামাম নেটাগরিক বিশ্বের জন্য উন্মুক্ত করা হবে, সেই ব্যাপারে টুইটার কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কিছু জানায়নি। তবে অসত্য প্রচারকারীদের বিরুদ্ধে বার্ডওয়াচের (Birdwatch) এই যুদ্ধে তারা সদবুদ্ধি সম্পন্ন সমস্ত মানুষকে পাশে চেয়েছেন। আপাতত এই ওয়েবসাইট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করবে।