চোখের পলকে হচ্ছে ডিজিটাল লেনদেন; জানুয়ারিতে রেকর্ড ইউপিআই ট্রানজাকশন ভারতে

upi-transactions-worth-rs-4-31-trillion-in-january-in-india-npci-report.jpg

বিগত দু-তিন বছরে UPI (ইউনিফায়েড পেমেন্ট ইন্টারফেস) পেমেন্ট সিস্টেমের‌ ওপর সাধারণ মানুষের নির্ভরশীলতা কিভাবে বেড়েছে – তা আশা করি নতুন করে বলে দিতে হবে না। কাছে টাকা বা ব্যাঙ্কের কার্ড না থাকলেও, যেকোনো মুহূর্তে চটজলদি অনলাইন ট্রানজাকশন বা পেমেন্ট সারতে ভরসা এখন UPI মাধ্যম। ফলে এখন, আমাদের প্রায় সবার স্মার্টফোনেই অন্যান্য অ্যাপ্লিকেশনের পাশাপাশি জায়গা করে নিয়েছে Google Pay, PhonePe বা Paytm-এর মত ইউপিআই অ্যাপগুলি। এদিকে করোনাকালে এই ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমটির ব্যবহার স্বাভাবিকের তুলনায় আরো কয়েক গুণ বেড়েছে। ভারতের জাতীয় পেমেন্ট কর্পোরেশন অর্থাৎ NPCI-এর সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, এই জানুয়ারিতে ভারতে ২.৩ বিলিয়ন ইউপিআই ট্রানজাকশন হয়েছে, যার মোট মূল্য ৪.৩১ ট্রিলিয়ন অর্থাৎ ৪,৩১,১৮১ কোটি টাকা।

একটি টুইট পোস্টের মাধ্যমে NPCI (ন্যাশনাল পেমেন্ট কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া) জানিয়েছে যে, গত ডিসেম্বরের তুলনায় ইউপিআই ট্রানজাকশনের হার প্রায় ৩.৬% বেড়েছে। যেখানে ডিসেম্বরে ২.২৩ বিলিয়ন (৪,১৬,১৭৬.২১ টাকার) ট্রানজাকশন হয়েছিল, সেখানে মাত্র এক মাসের ব্যবধানে এই অঙ্ক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২.৩ বিলিয়নে।

যদিও জানুয়ারি মাসে বিভিন্ন ইউপিআই অ্যাপ্লিকেশনগুলি কেমন মার্কেট শেয়ার পেয়েছে – সেবিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি এনপিসিআই। তবে গত ডিসেম্বরে PhonePe-এর মাধ্যমে প্রায় ৯০২.০৩ মিলিয়ন (যার মোট অঙ্ক ১৮২,১২৬.৮৮ কোটি টাকা) অনলাইন ট্রানজাকশন হয়েছিল, যার ফলে ওয়ালমার্টের অধীনস্থ ইউপিআই প্ল্যাটফর্মটি মার্কেটে বৃহত্তম শেয়ারহোল্ডার হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। ওই সময়, টেক জায়ান্ট গুগলের পেমেন্ট ইন্টারফেস Google Pay, ৮৫৪.৪৯ মিলিয়ন (প্রায় ১৭৬১৯৯.৩৩ কোটি টাকার) ট্রানজাকশন করেছিল। বছর শেষে, এই দুটি প্ল্যাটফর্ম সম্মিলিতভাবে ইউপিআই বাস্তুতন্ত্রের প্রায় ৮০% মার্কেট শেয়ার দখল করেছিল। বাকি ২০% অংশের দাবিদার ছিল Paytm, Amazon Pay, BHIM ইত্যাদি ইউপিআই পরিষেবা।

এদিকে গত নভেম্বরের শুরুতে, এনপিসিআই, জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম WhatsApp-কেও ইউপিআই-ভিত্তিক ফিচার চালু করার অনুমতি দিয়েছে। তবে, ফেসবুকের মালিকানাধীন সংস্থাটি দুই মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে এই ফিচারটি সমস্ত ইউজারের জন্য উপলব্ধ করতে পারেনি। সেক্ষেত্রে, গত ডিসেম্বরে ‘WhatsApp Pay’ ফিচারের মাধ্যমে ০.৮১ মিলিয়ন (২৯.৭২ কোটি টাকার) লেনদেন হয়েছে বলে জানিয়েছিল এনপিসিআই। তবে আগামী দিনে এই অঙ্ক আরো বাড়বে বলেই আশা করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, গতকালের সাধারণ বাজেটে ভারতের ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমের বিকাশের উদ্দেশ্যে বিশেষ প্রস্তাব দিয়েছে অর্থমন্ত্রক। এক্ষেত্রে দেশে
ডিজিটাল পেমেন্ট বাড়াতে এবং সমগ্র প্রক্রিয়াটি আরো উন্নত করতে একটি প্রকল্প চালু করার কথা ভাবছে সরকার, যার জন্য বরাদ্দ হয়েছে ১,৫০০ কোটি টাকা। সুতরাং, আগামী দিনে ইউপিআই ট্রানজাকশনের হার যে আরো বাড়বে এমনটা আশা করাই যায়।

হোয়াটসঅ্যাপে খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন

A person who enjoys creating, buying, testing, evaluating and learning about new technology.