Vivo V20 কেনার আগে জেনে নিন ফোনটির ভালো দিক ও খারাপ দিক

vivo-v20-review-pros-and-cons-should-you-buy-it

গত সেপ্টেম্বরে বিশ্ববাজারে লঞ্চ হয়েছে Vivo-র ‌’V’ সিরিজের নতুন স্মার্টফোন Vivo V20। যদিও অক্টোবরের ১৩ তারিখ থেকে এটি ভারতের বাজারে উপলব্ধ হয়েছে, এবং এই ‘V20’ লাইনআপের অন্য দুটি ফোন Vivo V20 Pro এবং Vivo V20 SE এই মাসে অর্থাৎ নভেম্বরে ভারতের বাজারে লঞ্চ হবে বলে জানা গিয়েছে। ইতিমধ্যে Vivo V20 ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোনটি একই রেঞ্জের Realme, Samsung এবং OnePlus-এর ডিভাইসগুলিকে বেশ টেক্কা দিচ্ছে বলে শোনা যাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই অনেকেই হয়তো এই স্মার্টফোনটি কিনবেন বলে মনস্থির করছেন। তবে আজ আমরা এই ফোনটির কিছু সুবিধা এবং অসুবিধার কথা আপনাদের বলব, যা দেখে আপনারা ফোনটি আপনাদের জন্য কতটা লাভদায়ক হবে সে সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারবেন।

Vivo V20-র স্পেসিফিকেশন

Vivo V20 ফোনটির মূল ফিচারের কথা বললে, এতে রয়েছে ৮ জিবি র‌্যাম এবং কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৭২০জি প্রসেসর। এছাড়াও পাবেন ৬.৪৪ ইঞ্চি ফুল এইচডি প্লাস সুপার AMOLED ওয়াটার ড্রপ নচ ডিসপ্লে, যার স্ক্রিন টু বডি রেশিও ৯১.২% এবং স্ক্রিন রিফ্রেশ রেট ৯০ হার্টজ । ফটোগ্রাফির জন্য এতে আছে ৬৪ মেগাপিক্সেল ট্রিপল রিয়ার ক্যামেরা সেটআপ, সেলফি ও ভিডিও কলিংয়ের জন্য রয়েছে ৪৪ মেগাপিক্সেলের ফ্রন্ট ক্যামেরা। এছাড়া ফোনটিতে পাবেন ৪,০০০ এমএএইচ ব্যাটারি এবং ৩৩ ওয়াট ফ্ল্যাশ চার্জিং সাপোর্ট। এটি অ্যান্ড্রয়েড ১১ বেসড FunTouchOS 11 অপারেটিং সিস্টেমে চলবে। থাকছে ইন ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরও। এটি মিডনাইট জাজ, মুনলাইট সোনাটা এবং সানসেট মেলোডি কালারে পাওয়া যাবে।

Vivo V20-র দাম ও লভ্যতা

Vivo V20-র ১২৮ জিবি স্টোরেজ ভ্যারিয়েন্টটি কিনতে দাম পড়বে ২৪,৯৯০ টাকা। আবার ২৫৬ জিবি স্টোরেজের মডেলটি কিনতে গেলে ২৭,৯৯০ টাকা ব্যয় করতে হবে। এই ফোনটি Flipkart ও Vivo-র অনলাইন স্টোর থেকে কেনা যাবে। পাশাপাশি অফলাইনে বা দোকানেও ফোনটি উপলব্ধ।

এত গেল ফোনের সাধারণ সব তথ্যের কথা। এবার আসুন ফোনটির পারফরম্যান্স সম্পর্কে কিছু হাইলাইট দেখে নেওয়া যাক।

Vivo V20-র ভালো দিক

ফোনটির ডিজাইন বেশ স্টাইলিশ এবং চোখ ধাঁধানো, বডি টেক্সচারও বেশ মসৃণ। এটির বড় স্ক্রিন ইউজারদের বেশ উজ্জ্বল মানের ছবি/ভিডিও দেখার অভিজ্ঞতা দেয় এবং এর OLED ডিসপ্লে স্মুথ ক্যালিব্রেশন বা টাচ এক্সপিরিয়েন্স দেয়। এছাড়া Vivo V20 ভালো ব্যাটারি ব্যাকআপ দেয় এবং চার্জও হয় মুহূর্তের মধ্যেই। ফোনটিতে লেটেস্ট অপারেটিং সিস্টেম দেওয়া হয়েছে এবং এর FunTouchOS 11 কাস্টম স্কিন বেশ মজার অনুভূতি দেবে। এছাড়া ফোনটির র‌্যাম ম্যানেজমেন্টও ইউজারদের কোনোভাবেই হতাশ করবেনা। শুধু তাই নয়, Vivo V20-এ কর্নিং গরিলা গ্লাস ৫-এর প্রোটেকশন রয়েছে, তাই ফোনটি পড়ে গেলেও ডিসপ্লের ক্ষতি হওয়ার তেমন সম্ভাবনা নেই। আবার সেলফিপ্রেমী ইউজাররা ফোনের ক্যামেরায় সুপার নাইট সেলফি, স্লো মো সেলফি, 4K সেলফি ইত্যাদি ফিচার ব্যবহার করতে পারবেন।

Vivo V20-র খারাপ দিক

এই ফোনটির একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হল এর আল্ট্রা ওয়াইড ক্যামেরার পারফরম্যান্স। ওয়াইড ক্যামেরার জন্য এফ/২.২ অ্যাপারচার সহ ৮ মেগাপিক্সেল লেন্স হলেও এর ইমেজ আউটপুট ততটাও আহামরি নয়। আবার ৩৩ ওয়াট ফ্ল্যাশ চার্জিং সাপোর্ট থাকলেও, বাজারের বেশির ভাগ মিড রেঞ্জের ফোনেই যেখানে ৫,০০০ এমএএইচ ব্যাটারি ক্যাপাসিটি রয়েছে, সেখানে এই ফোনটিতে মাত্র ৪,০০০ এমএএইচ ব্যাটারি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এই সেগমেন্টে অন্যান্য ব্র্যান্ডের যে সমস্ত ডিভাইসগুলি রয়েছে সেগুলির তুলনায় Vivo V20-র প্রসেসর বা পারফরম্যান্স ততটাও সন্তোষজনক নয়।