A-SAT বা অ্যান্টি স্যাটেলাইট আসলে কি ? কিভাবে যুদ্ধে কাজে লাগে ? সব জেনে নিন

  

বৃহস্পতিবার ইসরোর সাফল্য মুকুটে যোগ হলো নতুন একটি পালক। মহাকাশবিদ্যার প্রযুক্তিতে ভারত আজ চতুর্থ দেশ হিসেবে উঠে এল। আমেরিকা, রাশিয়া এবং চীন এর পর ভারতই হল চতুর্থ দেশ যেটি মহাকাশে প্রদক্ষিণরত অ্যান্টি স্যাটেলাইট (A-Sat) কে ধ্বংস করেছে। মাত্র তিন মিনিটের মধ্যে ইসরো( ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজেশন) অ্যান্টি স্যাটেলাইটটিকে লো আর্থ অরবিটের ৩০০ মিটারের মধ্যে ধ্বংস করেছে। আসুন জেনে নেওয়া যাক অ্যান্টি স্যাটেলাইট এবং লো আর্থ অরবিট আসলে কি ?

অ্যান্টি স্যাটেলাইট(A-Sat) :


অ্যান্টি স্যাটেলাইট বা A-SAT হলো মহাকাশের এমন একটি অস্ত্র যেটিকে কোন স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহ ধ্বংস করতে কাজে লাগানো হয়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এরকম অ্যান্টি স্যাটেলাইট মহাকাশে ছাড়ে। যদিও এখনো অব্দি এরকম কোন স্যাটেলাইটকে যুদ্ধের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়নি। এখনো অব্দি কেবলমাত্র আমেরিকা ,রাশিয়া এবং চীনের কাছেই এই ধরনের অ্যান্টি স্যাটেলাইট ধ্বংস করার ক্ষমতা ছিল। তবে এখন ভারতও সেই তালিকা শামিল হয়েছে।মিশন শক্তির অধীনে এই অ্যান্টি স্যাটেলাইটটিকে লো আর্থ অরবিটের মধ্যে ধ্বংস করে ভারত এই সম্মান অর্জন করেছে।

লো আর্থ অরবিট(LEO) :

LEO একটি পৃথিবীকেন্দ্রিক অরবিট এবং এটির উচ্চতা সর্বাধিক ২০০০ কিলোমিটারের মধ্যে হয়। এই অরবিটটির দৈর্ঘ্য হয় মূলত পৃথিবীর ১/৩ অংশ। এই অরবিট এই সাধারণত সমস্ত কৃত্রিম উপগ্রহগুলিকে পাঠানো হয়। এই অরবিটে থাকা যে কোন কৃত্রিম উপগ্রহ পৃথিবীকে দিনে ১১.২৫ বার প্রদক্ষিণ করতে পারে। লো আর্থ অরবিটে যেকোনো কৃত্রিম উপগ্রহকে পাঠাতে খুবই কম পরিমাণ শক্তির প্রয়োজন হয় তাই সেই কৃত্রিম উপগ্রহটি হাই ব্যান্ডউইথ এবং লো কমিউনিকেশন ল্যাটেন্সি পেতে পারে । এছাড়াও এই অরবিটেই মূলত সমস্ত স্পেস স্টেশন গুলি কে স্থাপন করা হয় যেটির মাধ্যমে মহাকাশের সমস্ত গতিবিধির ওপর নজর রাখতে পারা যায়।


প্রসঙ্গত উল্লেখ্য এই অ্যান্টি স্যাটেলাইট সিস্টেম এর জনক হিসেবে আমেরিকা এবং রাশিয়াকে ধরা যেতে পারে। আমেরিকা ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে এবং রাশিয়া ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দে অ্যান্টি স্যাটেলাইট ধ্বংস করতে সক্ষম হয়। এছাড়াও চীন ২০০৭ খ্রিস্টাব্দে তাদেরই পাঠানো একটি অ্যান্টি স্যাটেলাইট লো আর্থ অরবিটের মধ্যে ধ্বংস করে। ২০১০ খ্রিষ্টাব্দ থেকেই ভারত এই অ্যান্টি স্যাটেলাইট ধ্বংসের মিশনটিতে কাজ শুরু করে দিয়েছিল।