সোশ্যাল মিডিয়া মজেছে Reface অ্যাপে, ব্যবহার করা নিরাপদ?

what-is-reface-app-and-is-it-safe-for-use

বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটা ট্রেন্ড শেষ হয়, আবার পরক্ষণে অন্য ট্রেন্ডে মজে ওঠে নেটিজেনরা। কখন বিভিন্ন রকম কোটেশন নিয়ে হাসি-ঠাট্টা চলে, আবার কখনো Photo Lab কিংবা FaceApp-এর মাধ্যমে নিজের ফটো এডিট করে পোস্ট করার ধুম পড়ে যায়। এই মুহূর্তে সোশ্যাল মিডিয়ায় “রাসোড়ে মে কৌন থা” ক্লিপিংটি নিয়ে বিভিন্ন মিম, ভিডিও আপনারা নিশ্চয় দেখেছেন। তবে এই মজার ভিডিওটি ছাড়াও আরো একটি বিষয় এখন ট্রেন্ডিংয়ে রয়েছে, আর তা হল Reface App। এই অ্যাপ্লিকেশনটি, ইউজারদের বিভিন্ন জনপ্রিয় ভিডিও, GIF, সিনেমার দৃশ্য এবং এই ধরণের অন্যান্য ভিজ্যুয়াল মিডিয়ার ক্যারেক্টারে নিজেদের মুখ বসানোর অনুমতি দেয়। অর্থাৎ Reface অ্যাপের মাধ্যমে আপনি যেকোনো পছন্দের ভিডিওর চরিত্রের সাথে নিজের মুখ অদল-বদল করতে পারবেন।

এর আগেও বেশ কয়েকটি ফেস সোয়াপিং অ্যাপ বাজারে এসেছিল। তবে রিফেস, অল্প সময়ের মধ্যে প্রচুর জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ইতিমধ্যে গুগল প্লে স্টোর থেকে অ্যাপ্লিকেশনটি ১০ মিলিয়নেরও বেশি ডাউনলোড হয়েছে, এবং এটি ৪.৬ রেটিং পেয়েছে। এমনকি এটি অ্যাপল অ্যাপ স্টোরের এন্টারটেইনমেন্ট সেকশনে দ্বিতীয় নম্বরে রয়েছে। আপনিও যদি অ্যাপটি উপভোগ করে দেখতে চান, তবে প্লে স্টোর বা অ্যাপ স্টোর থেকে বিনামূল্যে ডাউনলোড করতে পারবেন, অ্যাপ্লিকেশনটির সাইজ মাত্র ১৫ এমবি।

কিভাবে অ্যাপ্লিকেশনটি ব্যবহার করবেন:
১. প্রথমে অবশ্যই অ্যাপটি ডাউনলোড করুন।
২. অ্যাপটির স্ক্যানারে আপনার মুখ স্ক্যান করুন।
৩. এরপর আপনার পছন্দ মত ভিডিও বেছে নিন।
৪. ‘ফিচার্ড টুডে’ ড্যাশবোর্ড থেকে আপনি একাধিক মিউজিক ভিডিও, ফিল্মের দৃশ্য বা ভিডিও ক্লিপ পাবেন, যেখানে আপনি নিজের মুখ যুক্ত করতে পারেন।
৫. কোনো GIF-এ নিজের মুখ যুক্ত করতে ম্যাগনিফাইং গ্লাসে ক্লিক করুন।
৬. ভিডিও তৈরি হয়ে গেলে শেয়ার বাটনে ক্লিক করে সেটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে পারেন।

এই প্রসঙ্গে বলে রাখি, অন্যান্য অ্যাপ্লিকেশনের মতই রিফেস অ্যাপেও বেশি ফিচার বা ভিডিও ক্লিপিং পেতে কিছু টাকার বিনিময়ে “Pro” সাবস্ক্রিপশন নিতে হবে।

এবার প্রশ্ন উঠেছে এই অ্যাপটিকে ব্যবহার করা নিরাপদ কিনা। বেশ কিছু প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, এই নতুন অ্যাপটি রাশিয়ার Doublicat অ্যাপের অন্য একটি সংস্করণ, যার নাম বদলে বাজারে আনা হয়েছে। তবে যাইহোক, অ্যাপ্লিকেশনটি যেহেতু ইউজারের পুরো ক্যামেরা রোল অ্যাক্সেস করতে পারে, তাই ইউজারের ডেটা কতটা সুরক্ষিত বা গোপন থাকছে, সেবিষয়ে আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। আবার অনেকে মনে করছেন, কোনো অপরাধী এই অ্যাপ্লিকেশনটি ব্যবহার করে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করতে পারে।

অন্যদিকে, অ্যাপটির নির্মাতা সংস্থা তাদের ডেটা পলিসি তে জানিয়েছে, অ্যাপটি মজাদার ভিডিও বানানোর জন্য কেবল ইউজারের মুখ এবং ফটো ফেসিয়াল ফিচার ডেটা সংগ্রহ করে। তাছাড়া অন্য কোনো কারণে ইউজারের ফটো বা মুখের ফেসিয়াল ফিচার ব্যবহার করা হয়না, কিংবা বায়োমেট্রিক অথেন্টিকেশনে ব্যবহার করা হয়না। যদিও ইউজারের ফেসিয়াল ডেটা ৩০ দিন অবধি অ্যাপের সার্ভারে থেকে যায়। তবে এতে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই।