দশম জন্মদিনে হোয়াটসঅ্যাপ সম্পর্কে জানুন এই পাঁচটি অজানা তথ্য

আজ থেকে ১০ বছর আগে ইয়াহুর দুজন কর্মচারী একটি ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং অ্যাপ মার্কেটে নিয়ে আসেন নাম দেন হোয়াটসঅ্যাপ। ২জি ও ৩জি ইন্টারনেটের যুগে হোয়াটসঅ্যাপ হয়ে উঠেছিল সাধারণ মেসেজিং অ্যাপ এর সবচেয়ে বড় বিকল্প। এরপরে মার্কেটে হ্যাংআউটস্, টেলিগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট, ফেসবুক মেসেঞ্জার , সহ আরো বিভিন্ন মেসেজিং অ্যাপ এলেও হোয়াটসঅ্যাপের জনপ্রিয়তা একটুও ক্ষুন্ন হয়নি। আজকের দিনে ভিডিও কলিং, গ্রুপ চ্যাট, স্টিকার, স্ট্যাটাস স্টোরি সহ এত কিছু সুবিধার দৌলতে হোয়াটসঅ্যাপের মাসিক ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১.৫ বিলিয়ান যার মধ্যে ভারতেই শুধু রয়েছে ২০০ মিলিয়ন।তাহলে আসুন হোয়াটসঅ্যাপ এর ১০তম জন্মদিনে জেনে নিই এই অ্যাপটির যাত্রাপথের পাঁচটি অজানা তথ্য

• প্রতিষ্ঠাতা- ২০০৭ সালে ব্রায়ান অ্যাক্টন এবং জান কৌম নামের ইয়াহুর দুজন কর্মচারী নিজেদের চাকরি ছাড়েন, ফেসবুকে যোগ দেওয়ার জন্য যেটি তখন সবে সবে শুরু হয়েছে। যখন ফেসবুক তাদের দু’জনকেই প্রত্যাখ্যান করে তখন তারা নিজেদের চেষ্টায় কিছু একটা করার ভাবনা নেন। চাকরি ছাড়ার ঠিক দুই বছরের মাথায় ২০০৯ সালের আজকের দিনে অ্যাক্টন এবং কৌম লঞ্চ করেন হোয়াটসঅ্যাপ যা বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছে।

• প্রথমে ফ্রি, তারপর পেইড, তারপর আবার ফ্রি- লঞ্চ হওয়ার সময় হোয়াটসঅ্যাপ ছিল একটি ফ্রি অ্যাপ্লিকেশন। কিন্তু এর দ্রুত বৃদ্ধির হারকে কমানোর জন্য হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষ এটিকে পেইড অ্যাপ্লিকেশন করতে বাধ্য হন। ২০১৫ য় বেরোনো একটি সার্ভে রিপোর্ট অনুযায়ী হোয়াটসঅ্যাপকে ৫০০,০০০ ডলার প্রতি মাসে খরচ করতে হয়েছিল এসএমএস ভেরিফিকেশন এর জন্য যা একটি নতুন হোয়াটস্যাপ অ্যাকাউন্ট খোলার সময় প্রয়োজন হয়। তবে বর্তমানে হোয়াটসঅ্যাপ সম্পূর্ণ ফ্রি একটি অ্যাপ্লিকেশন।

• ফেসবুক দ্বারা অধিগৃহীত হোয়াটসঅ্যাপ- অনেক ধরনের ফিচার এবং পরিবর্তন মেসেঞ্জার অ্যাপ্লিকেশনে আনার পরও হোয়াটসঅ্যাপের জনপ্রিয়তা কমাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয় ফেসবুক। এরপরই ফেসবুকের সিইও মার্ক জুকারবার্গ হোয়াটসঅ্যাপকে অধিগ্রহণ করতে চান। ২০১৪ সালে ফেসবুক ১৯ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে হোয়াটসঅ্যাপকে অধিগ্রহণ করে। এখন ফেসবুক হোয়াটসঅ্যাপে বেশ কিছু পরিবর্তন আনতে চলেছে ,যার মধ্যে অন্যতম হলো স্ট্যাটাসে গুগলের অ্যাড শো করা। এছাড়াও হোয়াটসঅ্যাপকে মেসেঞ্জার এবং ইনস্টাগ্রামের সঙ্গে যোগ করার কাজও তারা করছে।

• মেসেজের গোপনীয়তা: এন্ড টু এন্ড এনক্রিপশন- বিশ্বের হাতেগোনা কয়েকটি অ্যাপের মধ্যে একটি হলো হোয়াটসঅ্যাপ যেটি আপনাকে মেসেজের এন্ড টু এন্ড এনক্রিপশন দিতে সক্ষম। অর্থাৎ আপনার হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো কোন মেসেজ অন্য কোন ব্যক্তি কিংবা কোন থার্ড পার্টি অ্যাপের পক্ষে পড়া সম্ভব নয় কখনোই। এমনকি খোদ হোয়াটসঅ্যাপও আপনার মেসেজ কখনোই পড়তে পারবে না।

• স্ন্যাপচ্যাটকে পিছনে ফেলে এগিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ- ২০১৭ য় আই ও এস এবং ২০১৮ য় অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য হোয়াটসঅ্যাপ নিয়ে এসেছিল স্ট্যাটাস ব্যবস্থা, যা আমরা এতদিন দেখতে পেতাম শুধুমাত্র স্ন্যাপচ্যাটে। ২০১৮ র পরে স্ট্যাটাসের ক্ষেত্রেও স্ন্যাপচ্যাটকে পিছনে ফেলে দিয়েছে ফেসবুকের হোয়াটসঅ্যাপ। যেখানে হোয়াটসঅ্যাপের নিয়মিত স্ট্যাটাস ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৪৫০ মিলিয়ন সেখানেই স্ন্যাপচ্যাটের নিয়মিত স্ট্যাটাস ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৯১ মিলিয়ন।

পড়ুন : অজান্তেই গ্রুপের মেম্বার হয়ে যাচ্ছেন ? হোয়াটসঅ্যাপ আনছে নতুন ফিচার

Last Updated on