WhatsApp এর স্ট্যাটাস ফিচারে ত্রুটি! আপনার ব‌্যক্তিগত তথ্য সহজেই হাতাতে পারে হ্যাকাররা

WhatsApp status flaw stalker can easily access your personal information

বর্তমানে WhatsApp বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম। প্রতি মাসে প্রায় ২ বিলিয়ন সক্রিয় ব্যবহারকারী আছে ফেসবুক মালিকানাধীন অ্যাপটির। তবে এই বছরের শুরুতেই বিতর্কিত প্রাইভেসি পলিসি নিয়ে কাঠগড়ায় তোলা হয়েছে মেসেজিং অ্যাপটিকে। তবে সে বিতর্ক একটু থামতেই, ফের WhatsApp ব্যবহারকারীদের সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেল। আসলে সম্প্রতি Traced-এর একটি রিপোর্টে জানা গেছে যে, WhatsApp Status-এ ত্রুটির কারণে স্টকার থেকে শুরু করে সাইবার অপরাধীরা WhatsApp Online Status Tracker ওয়েবসাইট এবং অ্যাপের সাহায্যে ইউজারদের ব্যক্তিগত তথ্যের অ্যাক্সেস পেয়ে যাচ্ছে। রিপোর্টটিতে আরও বলা হয়েছে যে, হোয়াটসঅ্যাপ ইউজারেরা কাকে মেসেজ করছেন এবং কে তাদের কাছে মেসেজ পাঠাচ্ছেন, সবকিছুই ট্র্যাক করতে পারছে সাইবার হামলাকারীরা।

যখন কোনো ইউজার হোয়াটসঅ্যাপে অনলাইনে আসেন, তখন তার প্রোফাইল তৎক্ষণাৎ ডিসপ্লে করে যে তিনি “অনলাইন”। যে কেউ এই অনলাইন স্ট্যাটাস দেখতে পান। এমনকি কোনো ইউজারের নম্বর যদি আপনার ফোনো সেভ করা নাও থাকে, তাহলেও আপনি জানতে পারবেন যে তিনি অনলাইন না অফলাইন। যারা জানেন না তাদের জন্য বলে রাখি, এই মুহূর্তে মার্কেটে একাধিক WhatsApp Status ট্র্যাকার রয়েছে, যার সাহায্যে লাগাতার কোনো ইউজারের স্ট্যাটাস মনিটর করা সম্ভব।

নির্দিষ্ট সময়ে, নির্দিষ্ট দিনে কোনো ব্যক্তি হোয়াটসঅ্যাপে কখন আসছেন, কী করছেন – সেই সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য কীভাবে খুব সহজেই পাওয়া যায়, তা সম্প্রতি Traced CTO ম্যাট বোডি, কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ অনলাইন স্ট্যাটাস ট্র্যাকার ব্যবহার করে দেখিয়েছেন এবং জনসাধারণের সামনে ব্যাপারটি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। খুব সহজ ভাষায় বলতে গেলে, কোনো হোয়াটসঅ্যাপ ইউজারের নম্বর যদি আপনার কাছে থাকে, তাহলে হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাস ট্র্যাকারের সাহায্যে খুব সহজেই জানা যাবে যে, সেই ব্যক্তি কখন হোয়াটসঅ্যাপে অনলাইন হলেন এবং কতক্ষণই বা তিনি অনলাইন থাকলেন। এই ধরনের অ্যাপ এবং ওয়েবসাইটের খুব সাধারণ কিছু বৈশিষ্ট্য রিপোর্টে উল্লেখ করা হলেও, সেগুলিকে প্রোমোট না করার জন্য অ্যাপগুলির নাম নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি।

Traced-এর এই রিপোর্টে এমন একটি স্ট্যাটাস ট্র্যাকার অ্যাপের কথা বলা হয়েছে, যেটি স্বামী বা স্ত্রীর মধ্যে কেউ পরকীয়ায় মত্ত কি না, তার মুখোশ খুলে দিতে সক্ষম। অ্যাপটির বর্ণনায় বলা আছে, ‘আপনি যদি আপনার স্ত্রী/স্বামী অথবা বয়ফ্রেন্ড/গার্লফ্রেন্ডকে সন্দেহ করেন, তাহলে WhatsApp Last Seen Tracker জানতে সাহায্যে করবে, আপনার সন্দেহ সঠিক নাকি ভুল।’ অপরদিকে, অন্য একটি ট্র্যাকার সন্তানদের নিয়ে বাবা-মায়ের সন্দেহ সঠিক কি না, তার যথাযথ উত্তর পেতে সাহায্য করবে।

এই জাতীয় অ্যাপগুলি ইউজারের পরিবর্তে স্টকারের ডিভাইসে ডাউনলোড করা হয়। আপনি যার উপর গুপ্তচরবৃত্তি করছেন এবং যার সাথে তিনি চ্যাট করছেন বলে আপনি মনে করেন, তার ফোন নম্বরগুলি আপনাকে কেবল এই অ্যাপে এন্টার করতে হবে। তারপর অ্যাপটিই আপনাকে জানিয়ে দেবে যে, ওই দুটি নম্বর একে অপরের সাথে চ্যাট করছে কি না।

এখন মূল বিষয়টি হল, এই অ্যাপগুলি তো গুগল প্লে স্টোর থেকেই ডাউনলোড করা হয়। তাহলে Google কেন এই বিষয়টি রুখতে কোনো উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না? এর পরিপ্রেক্ষিতে গুগলের তরফে জানানো হয়েছে যে, ‘সাধারণত সন্তানের গতিবিধির উপর নজর রাখতে তাদের অভিভাবকেরা এই অ্যাপ ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু কোনোভাবেই কোনো ব্যক্তিকে তাদের অনুমতি ছাড়া ট্র্যাক করা উচিত নয়।’

সুদীর্ঘ আলোচনার পর দুঃখের বিষয়টি হল এই যে, এই সমস্যা রুখতে WhatsApp-এর কাছে আপাতত কোনো রাস্তা খোলা নেই। ইউজাররা তাদের কেউ ট্র্যাক করছে কি না তাও খুঁজে বের করতে পারবেন না। বলা হচ্ছে, হোয়াটসঅ্যাপে লাস্ট সিন লুকানোর বিকল্প রয়েছে, তবে আপনি যখন অ্যাপটি ব্যবহার করছেন তখন যে “অনলাইন” স্ট্যাটাস দেখা যায়, সেটা লুকিয়ে রাখার কোনো উপায় নেই। ফলে বর্তমানে এই জাতীয় সমস্যা সমাধানের কোনো উপায় না থাকায় ইউজারদের মধ্যে একটা আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। তাই সিকিউরিটি রিসার্চারদের চরম সমালোচনার সম্মুখীন হতে হচ্ছে এই ম্যাসেজিং প্ল্যাটফর্মটিকে।

হোয়াটসঅ্যাপে খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন