WhatsApp-এ ভাইরাল বিনামূল্যে Tata Safari জেতার মেসেজ, লোভ করলেই ফাঁসবেন

whatsapp-viral-message-about-tata-safari-is-fake-company-responds

একগুচ্ছ প্রশ্নের উত্তর দিলেই নাকি মিলবে Tata Safari (টাটা সাফারি)! হ্যাঁ, সম্প্রতি এমনই এক মেসেজ WhatsApp (হোয়াটসঅ্যাপ)-এ অহরহ ঘোরাফেরা করছে, যেখানে বলা হয়েছে যে, আপনি একটি প্রশ্নাবলী পূরণ করে Tata Safari জিততে পারেন। এর কারণ হিসেবে WhatsApp মেসেজটিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অটোমোবাইল মেজর Tata Motors Cars, ৩০ মিলিয়নেরও বেশি গাড়ি বিক্রির এক বিশাল রেকর্ড ছুঁয়েছে এবং সেই সুবাদেই কোম্পানির তরফ থেকে এই “অফার” দেওয়া হচ্ছে। মেসেজটি WhatsApp-এর পাশাপাশি Twitter-ও ভাইরাল হচ্ছে, এবং লোকেরা Tata Safari পাওয়ার আশায় প্রশ্নপত্রটি পূরণ করছে। খুবই স্বাভাবিক, আস্ত একটা ঝকঝকে নতুন গাড়ি জেতার স্বপ্ন কে না দেখে! কিন্তু আসল ঘটনাটি হল এই মেসেজটি ভুয়ো।

ভাইরাল হওয়া মেসেজটিতে যা বলা থাকছে তা অনেকটা এরকম, “৩০ মিলিয়নের বেশি বিক্রির অভাবনীয় সাফল্য উদযাপন করছে Tata Motors Cars! সেই উপলক্ষ্যে কয়েকটি সহজ প্রশ্নের উত্তর দিয়ে (filling a questionnaire) আপনি একটি TATA SAFARI (sic) জেতার সুযোগ পাবেন।” কেউ কেউ নির্দ্বিধায় প্রশ্নপত্রটি পূরণ করলেও অনেকেই Twitter-এ গিয়ে Tata Motors-কে জিজ্ঞাসা করেন যে দাবি করা প্রস্তাবটি সংস্থার দেওয়া কি না। এর পরিপ্রেক্ষিতে Tata Motors Cars-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, অফার বা স্কিমটি সম্পূর্ণ ভুয়ো, এবং মেসেজে দেওয়া লিংকে ক্লিক করলে যে কেউ ডেটা চুরি অথবা হ্যাকারদের ফিশিং অ্যাটাকের শিকার হতে পারেন। অর্থাৎ খুব সহজ ভাষায় বললে, মানুষকে প্রতারিত করার জন্য এটি হল হ্যাকারদের সৃষ্টি করা এক নতুন ফাঁদ।

এই প্রসঙ্গে Tata Motors-এর তরফ থেকে একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “দয়া করে মনে রাখবেন, Tata Motors এই জাতীয় কোনও প্রতিযোগিতার কথা ঘোষণা করেনি এবং এই জাতীয় প্রকল্পগুলির সাথে জড়িত সকল স্কিম বা অফারের সঙ্গে সংস্থার কোনো সম্পর্ক নেই। উপরন্তু, আমরা দৃঢ়ভাবে পরামর্শ দিচ্ছি যে, এই ধরনের প্রতারণামূলক মেসেজ কেউ পেলে সেগুলি সোশ্যাল মিডিয়ায় আরও ছড়িয়ে না দিয়ে অবিলম্বে ডিলিট করে ফেলুন।” এর পাশাপাশি সংস্থাটি মানুষকে সন্দেহজনক লিঙ্ক এবং মেসেজগুলিতে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করেছে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, বিশাল পরিমাণ বিক্রয়ের অঙ্ক রেকর্ড করে Tata Motors বা অন্যান্য আরও নামিদামি সংস্থাগুলি হয়তো খ্যাতির আরও চরম শিখরে পৌঁছে যাবে, এবং তাদের জনপ্রিয়তা আরও বিপুল পরিমাণে বৃদ্ধি পাবে, কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে এই ধরনের প্রলোভন এলে মানুষ তাতে প্রলুব্ধ হয়ে সর্বস্বান্তও হয়ে যেতে পারে। বড়ো বড়ো সংস্থাগুলি হয়তো বিশাল পরিমাণ লাভের মুখ দেখবে, কিন্তু হ্যাকারদের এই ধরনের প্রতারণার শিকার হয়ে সাধারণ মানুষের সর্বস্ব খোয়ানোর খবর উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে থাকবে। তাই সতর্কতা অবলম্বন করাই হল এই ধরনের প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার সর্বশ্রেষ্ঠ উপায়। সুতরাং, সর্বদা সতর্ক থাকুন এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ধরনের যে-কোনো লোভনীয় পোস্ট বা মেসেজ এড়িয়ে চলুন।

হোয়াটসঅ্যাপে খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন

টেকগাপের মেম্বাররা ও সদ্য যোগ দেওয়া লেখকরা এই প্রোফাইলের মাধ্যমে টেকনোলজির সমস্ত রকম খুঁটিনাটি আপনাদের সামনে আনে।