DSLR থেকে ভালো অ্যান্ড্রয়েড ক্যামেরা ! জানুন কেন

আমাদের মনে সর্বদা একটি ভুল ধারণা রয়েছে যে ফটোগ্রাফির জন্য DSLR এ সেরা। যদিও এমনটা কক্ষনো নয়। বর্তমান সময়ে তো এমনটা কোনোভাবেই বলা চলে না। কারণ গত কয়েকবছরে স্মার্টফোনে আমূল পরিবর্তন এসেছে। স্মার্টফোন কোম্পানিগুলো একটা কমপ্লিট প্যাকেজ গ্রাহকদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য স্মার্টফোনে নিত্য নতুন ফিচার নিয়ে আসছে। এখন তো কোম্পানিগুলোর মধ্যে রীতিমতো লড়াই চলছে কে কত বেশি মেগাপিক্সেল ক্যামেরার ফোন নিয়ে আসতে পারে। ফোনের ৪৮ মেগাপিক্সেল, ৬৪ মেগাপিক্সেল ও ১০৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরার সাহায্যে এখন ঝাঁ চকচকে ছবি ক্লিক করা যায়।

এই পরিস্থিতিতে আমাদের মনে দুটি প্রশ্ন আসে। প্রথমটি হলো ফোনে যে বেশি বেশি সেন্সর দেওয়া হচ্ছে তা কতটা শক্তিশালী বা কার্যকর? দ্বিতীয় স্মার্টফোনের ক্যামেরা কি ডিএসএলআরকে শক্ত প্রতিযোগিতা দিতে সক্ষম হবে? আমরা এই বিষয়ে পেশাদার ফটোগ্রাফার রঞ্জন শর্মাকে প্রশ্ন করেছিলাম। আসুন জেনে নেওয়া যাক এই বিষয়ে রঞ্জন কী বলছেন।

বেশি মেগাপিক্সেল ক্যামেরা ফোন কিভাবে ছবি ক্যাপচার করে  :

একটি উদাহরণ দিয়ে রঞ্জন বুঝিয়েছে যে, ধরুন কোনো ফোনে তিনটি ক্যামেরা আছে। এই তিনটি সেন্সর একসমান নয়। এর মধ্যে একটি একটি সেন্সর ৪৮ মেগাপিক্সেল এবং অন্যটি ১২ মেগাপিক্সেল। এবার যে ১২ মেগাপিক্সেল সেন্সর আছে সেটি ছবি ক্যাপচারের সময় সম্পূর্ণ ক্ষমতা ব্যবহার করেনা। এই পরিস্থিতিতে ৪৮ মেগাপিক্সেল সেন্সরটিকে ৪ দ্বারা বিভক্ত করা হয়। এই ৪ পিক্সেল যখন ডাটা রিড করে ১ পিক্সেলে তৈরী হয়। অর্থাৎ আপনি যদি ফোনে কোনো AI ফিচার ব্যবহার করে থাকেন তাহলে বাই ডিফল্ট এটি আপনার সেন্সরের এক চতুর্থাংশ রেজাল্ট দেয়।

অ্যান্ড্রয়েড কি ভবিষ্যতে DSLR কে টেক্কা দিতে পারবে :

রঞ্জন শর্মার মতে অ্যান্ড্রয়েড ও DSLR এর মধ্যে প্রতিযোগিতা প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। এর কারণ হল এমন কোন ডিএসএলআর আছে, যেটি কোনও ছবি ক্যাপচার করার পাশাপাশি হোয়াটসঅ্যাপ বা সোশ্যাল মিডিয়া ওয়েবসাইটে শেয়ার করতে পারে। কোনও ডিএসএলআর এটি করতে পারে না। তবে অনেকে বলবে যে, ডিএসএলআরকে ওয়াই-ফাইতে সংযুক্ত হয়ে ফটো শেয়ার করা যায়। তবে এই প্রক্রিয়ায় অনেক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। এমনকি ডিএসএলআরে ন্যূনতম রেজুলেশনের কোনো ছবি ক্যাপচার করলে তার সাইজ অনেক বড়ো হয়।

রঞ্জন বলেন যে ডিএসএলআর সংস্থাগুলি অ্যান্ড্রয়েড প্রযুক্তি গ্রহণ করতে পারত তবে তারা এটা জেনে বুঝেই গ্রহণ করবে না। এর কারণ অ্যান্ড্রয়েড একটি ওপেন সোর্স প্ল্যাটফর্ম এবং ডিএসএলআর সংস্থাগুলি এই ধরণের প্ল্যাটফর্ম গ্রহণ করতে চায় না কারণ আজ অবধি তারা ক্লোসড সফ্টওয়্যার মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করেছে। অ্যান্ড্রয়েড একটি আলাদা প্ল্যাটফর্ম যা ব্যবহারকারীরা ইচ্ছা অনুযায়ী কাস্টমাইজ করতে পারেন।

এখনও অবধি ডিএসএলআর সংস্থাগুলি তাদের ক্যামেরাগুলিকে স্মার্ট করতে সক্ষম হয়নি। তবে স্মার্টফোনগুলি ক্রমশ স্মার্ট হয়ে উঠছে। এআই দ্রুত চার্জিং থেকে শুরু করে ব্যাকগ্রাউন্ডে চলা অ্যাপকে কাস্টোমাইজড করার মতো প্রযুক্তি ডিএসএলআরেও আনা যেতে পারে, তবে ডিএসএলআর সংস্থাগুলি এতে মনোযোগ দিতে চায় না। অদূর ভবিষ্যতে ডিএসএলআর সংস্থাগুলির জন্য সমস্যাটি হল, আজ তাদের কাছে যে প্রযুক্তি রয়েছে তা তারা ১০ বছর পরে তাদের ক্যামেরায় ব্যবহার করবে। তবে ততদিনে অ্যান্ড্রয়েড মার্কেট অনেকটাই এগিয়ে যাবে।

সমস্ত খবরের আপডেট পেতে এখানে লাইক দিন!