আসলে কেন নিষিদ্ধ হল চাইনিজ অ্যাপ, ফের কি ফেরত আসবে জেনে নিন

সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং প্লাটফর্ম ফের সরগরম! TikTok সহ প্রায় ৫৯টি চীনা অ্যাপ ব্যান করে, বড়সড় পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত সরকার। নিষিদ্ধ চীনা অ্যাপ্লিকেশনগুলির তালিকায় রয়েছে ShareIt, Helo, Shein, Likee, WeChat, UC Browser, CamScanner ইত্যাদি জনপ্রিয় অ্যাপ ও শাওমির কিছু অ্যাপ্লিকেশনের নাম।

ফোন কিনতে এখানে ক্লিক করুন।

অ্যাপ্লিকেশনগুলি শুধু তাদের চীনা উৎসের জন্য নিষিদ্ধ হয়নি, দেশের সুরক্ষা ও ঐক্য বজায় রাখার জন্য এই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সরকারের তরফে জানানো হয়েছে। এর আগে একটি প্রতিবেদনে আমরা জানিয়েছিলাম, ইতিমধ্যেই টিকটক এবং আরো কয়েকটি অ্যাপ, প্লে স্টোর থেকে অপসারিত হয়েছে, বাকিগুলি এখনো দৃশ্যমান অর্থাৎ এখনো সেগুলি ডাউনলোড করা যাচ্ছে।

ফোন কিনতে এখানে ক্লিক করুন।

কেনো বন্ধ করা হল জনপ্রিয় অ্যাপগুলি?

গালভান সীমান্তে ভারত-চীন উত্তেজনার পর থেকেই ভারতীয় নেটিজেনরা বা স্মার্টফোন ইউজাররা তাদের ক্ষোভ উগরে দিচ্ছিলেন। চীনা অ্যাপ এবং পণ্য ক্রয় নিষিদ্ধের দাবি উঠছিল। এর আগে একবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ৪৭টির বেশি অ্যাপ্লিকেশনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে এমন খবর সামনে এসেছিল, যা সরকারের তরফে অস্বীকার করা হয়।

তবে এখন তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রকের সরকারী বিবৃতিতে বলা হয়েছে – মন্ত্রণালয় এই অ্যাপগুলি সম্পর্কে অভিযোগ পেয়েছিল, বেশ কয়েকটি প্রতিবেদনে ইউজারের ডেটা চুরি করা হচ্ছে এমন কথাও উঠে এসেছিল। ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম CERT-IN জানিয়েছিল অনেক অ্যাপেই ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে।

ভারতের তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রক, তথ্য প্রযুক্তি আইনের 69A ধারা (জনসাধারণের ডেটা অ্যাক্সেস ব্লক করার প্রোসিডিওর এবং সেফগার্ড) প্রয়োগ করে ওই ৫৯টি অ্যাপ্লিকেশনকে ব্যান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে অন্য কেউ দেশের নাগরিকদের ডেটা অ্যাক্সেস না করতে পারে এবং সেগুলির অপব্যবহার না করে।

ব্যবহারকারীরা এখন কী করবেন?

সরকার বলেছে, ভারতের সাইবার স্পেসের নিরাপত্তা তাদের দায়িত্ব, যাতে ভারতে মোবাইল এবং ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা যে কোনও ধরনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পেতে পারেন। ভবিষ্যতে প্রয়োজন পড়লে আবার এই জাতীয় পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। নিষিদ্ধ অ্যাপ্লিকেশনগুলি প্লে স্টোর এবং অ্যাপ স্টোর থেকে সরানো হবে। কোনো ডিভাইসে ওই অ্যাপ্লিকেশনগুলি ইনস্টল থাকলে, বর্তমানে ব্যবহারকারীরা সেগুলি ব্যবহারে সক্ষম হবেন। কয়েকদিনের মধ্যে সেগুলির ইন্টারনেট অ্যাক্সেস বন্ধ করে দেওয়া হবে। তবে চীনা অ্যাপগুলির প্রচুর বিকল্প অ্যাপ গুগল প্লে স্টোর এবং অ্যাপলের অ্যাপ স্টোরে উপলব্ধ। এছাড়া সরকার জানিয়েছে খুব শীঘ্রই তারা ইউজারদের জন্য ওই অ্যাপ্লিকেশনগুলির সেরা বিকল্প নিয়ে আসবে। বিকল্প জানতে এখানে ক্লিক করুন

এরপর ?

মনে করা হচ্ছে, বাইটড্যান্স (টিকটকের নির্মাতা), এবং ভারতের শীর্ষস্থানীয় স্মার্টফোন শাওমির মত সংস্থাগুলির জনপ্রিয় অ্যাপ্লিকেশন নিষিদ্ধ হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়বে। ওই অ্যাপগুলি কয়েক মিলিয়ন ডাউনলোড করা হয়েছিল। সরকার MI কমিউনিটি এবং MI ভিডিও কলের মতো কয়েকটি প্রাক ইনস্টলড MI অ্যাপ্লিকেশন নিষিদ্ধ করেছে। তবে জানিয়ে রাখি, শাওমি ফোন ব্যবহারকারীদের দুশ্চিন্তার কোনো প্রয়োজন নেই কারণ তাদের ফোন পরিষেবা এবং প্রয়োজনীয় অ্যাপ্লিকেশনগুলি কার্যকরী থাকবে।

অ্যাপগুলি কি ফেরত আসবে ?

আপনার মনেও যদি এই প্রশ্ন ঘোরাঘুরি করে যে, অ্যাপগুলি আবার ফিরে আসবে কিনা, তাহলে বলি আপাতত এই অ্যাপগুলির উপর থেকে ব্যান উঠিয়ে নেওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে যদি অ্যাপগুলি ভবিষ্যতে সরকারের সমস্ত দাবি মেনে আবার ফেরত আসে তাহলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। ইতিমধ্যেই সরকারের কাছে টিকটক সহ বেশ কিছু অ্যাপ দাবি জানিয়েছে যে, তারা ব্যবহারকারীদের কোনো ডেটা বাইরের কোনো দেশে শেয়ার করে না। টেক গাপের পক্ষ থেকে Helo অ্যাপের এক কর্মচারীর সাথে এবিষয়ে কথা বললে, সে জানিয়েছে তারা ফিরে আসতে বদ্ধপরিকর।

আমাদেরকে ফলো করুন ইনস্টাগ্রামে