প্রকাশ্যে Xiaomi-র প্রথম হাইড্রোজেন-ইলেকট্রিক হাইব্রিড মোটরসাইকেলের কনসেপ্ট

Xiaomi first hydrogen electric hybrid bike concept unveiled

আমেরিকান কোম্পানি সেগওয়ে (Segway) সাম্প্রতিক সময়ে নিজের পরিচিতিকে নতুন ভাবে দুনিয়ার সামনে পেশ করেছে। শাওমির বিনিয়োগ থাকা চাইনিজ রোবোটিক্স স্টার্টআপ নাইনবট (Ninebot) সেগওয়েকে কিনে নেওয়ার পর, সেল্ফ-ব্যালেন্সিং স্কুটার ও স্কেটবোর্ড ফার্মটির প্রোডাক্ট পোর্টফোলিওতে এখন ডার্ট ইলেকট্রিক বাইকও রয়েছে। তবে শুধুমাত্র ইলেকট্রিক নয়, দ্বৈত শক্তিতে চলবে এমন প্রোডাক্টের ভাবনাও যে সেগওয়ের মাথায় রয়েছে, তা প্রকাশ পেল কোম্পানির প্রথম হাইড্রোজেন-ইলেকট্রিক হাইব্রিড কনসেপ্ট (Hydrogen-Electric Hybrid Bike Concept) মোটরসাইকেল Segway Apex H2 এর ওপর থেকে পর্দা সরানোর মাধ্যমে।

অ্যাপেক্স এইচ2 বাইকটি কীভাবে চলবে তা একটু জটিল বলে মনে হতে পারে। সহজ ভাষায় বললে হাইড্রোজেন-ইলেকট্রিক হাইব্রিড পাওয়ারট্রেন বাইকটিকে গতিশীলতা প্রদান করবে। হাইড্রোজেন ট্যাঙ্কগুলিতে সঞ্চিত বায়বীয় হাইড্রোজেন একটি জ্বালানী কোষের মাধ্যমে বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে বাফার ব্যাটারিতে জমা হবে। তারপর এটিই ইলেকট্রিক মোটরটি চালানোর শক্তি যোগাবে। সেগওয়ের দাবি, অ্যাপেক্স এইচ২ কনসেপ্ট বাইকটির হাইব্রিড পাওয়ারট্রেন ৮১.১ পিএস পাওয়ার উৎপন্ন করতে সক্ষম। টপ স্পিড ১৫০ কিমি/ঘন্টা হওয়ার পাশাপাশি বাইকটি মাত্র ৪ সেকেন্ডেরও কম সময়ে ০-১০০ কিমি/ঘন্টা গতি তুলতে পারবে।

এদিকে হাইড্রোজেন স্টোরেজ সহজাতভাবে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ স্টোরেজ কন্টেইনার কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে যে কোনো সময় বিস্ফোরণ ঘটতে পারে৷ কাজেই এরকম সম্ভাবনা দূর করার জন্য সেগওয়ে বলেছে, তারা জলের বোতলের মতো আকারের সলিড অ্যালয় হাইড্রোজেন ক্যাপসুল ব্যবহার করেছে। কোম্পানির দাবি, প্রতি কিলোমিটার চালানোর জন্য Apex H2 এ ১ গ্রাম হাইড্রোজেনের দহন হবে।

Hydrogen-Electric Hybrid Bike Concept

হাইড্রোজেন-ইলেকট্রিক হাইব্রিড বাইকের জন্য প্রথমেই হাইড্রোজেনের রিপ্লেসমেন্ট কার্টরিজ বা রিফিলিং স্টেশনের প্রয়োজন। তাই দ্বৈত শক্তির উৎসের ওপর নির্ভর করে থাকা সুবিধার পরিবর্তে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তবে Segway যদি এই সমস্যাগুলি দূর করতে পারে তাহলে বাইক বলুন বা বাইকটির প্ল্যাটফর্ম যে হইচই ফেলে দেবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

Segway Apex H2 হাইড্রোজেন-ইলেকট্রিক হাইব্রিড মোটরসাইকেল কনসেপ্টের থিওরি যেহেতু অত্যন্ত জটিল, তাই এর ব্যাপকভাবে উৎপাদন শুরু হতে এখনও বছর দুয়েক সময় লাগবে। কোম্পানি বাইকটির প্রোডাকশন ভার্সন ৬৯,৯৯৯ ইউয়ান বা ভারতীয় মুদ্রায় ৭.৮৪ লক্ষ টাকায় ২০২৩ সালে লঞ্চ করার পরিকল্পনা করেছে বলে জানা যাচ্ছে। Segway-Ninebot এর প্রোডাক্ট প্রায়ই Xiaomi নামে রিব্র্যান্ডেড করা হয়। Apex H2 এর ক্ষেত্রেও কি এরকম কিছু ঘটার সম্ভাবনা আছে? দেখাই যাক!

হোয়াটসঅ্যাপে খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন