বড় ডিসপ্লে দুর্দান্ত ক্যামেরা, iPhone 16 কেনা সেরা হবে? দেখে নিন নতুন কি কি থাকবে

Apple iPhone 16 সিরিজের আগমনে এখনো বাকি ৮ মাস

২০২৪ সালের আগমন ঘটতে না ঘটতেই Vivo, Samsung, OnePlus -এর মতো ব্র্যান্ডগুলি নতুন ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন সিরিজের ঘোষণা করেছে। যদিও বিশ্ববাসী এখনো সেপ্টেম্বর মাসের অপেক্ষায় চাতক চাহুনিতে বসে। কেননা এই সময়েই আত্মপ্রকাশ করবে বহুল প্রতীক্ষিত Apple iPhone 16 লাইনআপ। খবর পাওয়া যাচ্ছে, আপকামিং এই সিরিজটি পূর্বসূরি iPhone 15 মডেলগুলির তুলনায় একাধিক উল্লেখযোগ্য ও নয়া আপগ্রেড সহ আত্মপ্রকাশ করবে। যেমন ১৬তম প্রজন্মের আইফোনগুলিতে – আরো বড় টাচস্ক্রিন, উন্নীত ক্যামেরা বিভাগ, ফাস্ট প্রসেসর, নতুন বাটন সহ অভিনব ডিজাইন, এমনকি এনহ্যান্সড AI ফিচারও থাকবে বলে দাবি করা হচ্ছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই টেকপ্রেমীরা এই সকল বৈশিষ্ট্যগুলি নিজ হাতে ঘেঁটে দেখার জন্য দিন গুনছেন। তবে Apple iPhone 16 সিরিজের আগমনে এখনো বাকি ৮ মাস। তার আগে চলুন এই লাইনআপে কোন কোন নতুন ফিচার দেওয়া হতে পারে সেগুলি দেখে নেওয়া যাক।

কি কি নতুন বৈশিষ্ট্য অন্তর্ভুক্ত করা হবে Apple iPhone 16 সিরিজে?

আপগ্রেডেড ডিসপ্লে ফিচার :

সাম্প্রতিক একটি রিপোর্ট অনুসারে, আইফোন ১৬ সিরিজের ‘প্রো’ মডেলগুলির ডিসপ্লে সাইজ বাড়ানো হতে পারে। আইফোন ১৬ প্রো (iPhone 16 Pro) -এর ডিসপ্লে সাইজ পূর্বসূরি আইফোন ১৫ প্রো -এর ৬.১-ইঞ্চি থেকে বাড়িয়ে ৬.৩-ইঞ্চি করে দেওয়া হতে পারে। আবার আইফোন ১৬ প্রো ম্যাক্স (iPhone 16 Pro Max) মডেলটি ৬.৯-ইঞ্চি ডিসপ্লের সাথে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। যেখানে কিনা আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্সে রয়েছে ৬.৭-ইঞ্চির ডিসপ্লে। ডিভাইসগুলির ডিসপ্লে সাইজ বাড়ানোর কারণ হিসাবে, আরো অধিক অর্থাৎ ১৬.৬:৯ এসপেক্ট রেশিও প্রদানের কথা বলা হয়েছে। যেখানে কিনা আইফোন ১৫ প্রো মডেলগুলি ১৯.৫:৯ এসপেক্ট রেশিও সাপোর্ট করে। অন্যদিকে, সিরিজের বেস মডেল আইফোন ১৬ (iPhone 16) এবং আইফোন ১৬ প্লাস (iPhone 16 Plus) পূর্বসূরি আইফোন ১৫ (৫.৪-ইঞ্চি) ও আইফোন ১৫ প্লাস (৬.১-ইঞ্চি) -এর অনুরূপ ডিসপ্লে সাইজ অফার করবে। আর এগুলিতে ‘প্রোমোশন’ (ProMotion) ফিচার সাপোর্ট করতে পারে, যা স্মুথ স্ক্রোলিং ও গেমিংয়ের জন্য ১২০ হার্টজ পর্যন্ত অ্যাডাপ্টিভ রিফ্রেশ রেট এনাবল করবে।

স্টোরেজ আপগ্রেড :

আপকামিং আইফোন ১৬ সিরিজ, বিদ্যমান আইফোন ১৫ সিরিজের ন্যায় একসমান স্টোরেজ বিকল্প অফার করতে পারে। অর্থাৎ আইফোন ১৬ এবং আইফোন ১৬ প্লাস – ৬৪ জিবি, ১২৮ জিবি, ২৫৬ জিবি এবং ৫১২ জিবি স্টোরেজ অপশনের সাথে আসবে। এদিকে আইফোন ১৬ প্রো এবং আইফোন ১৬ প্রো ম্যাক্স – ১২৮ জিবি, ২৫৬ জিবি, ৫১২ জিবি এবং ১ টেরাবাইট স্টোরেজ বিকল্পের সাথে মিলতে পারে। যদিও হালফিলে কিছু টেক বিশ্লেষক দাবি করেছেন যে, আসন্ন সিরিজের স্ট্যান্ডার্ড এবং প্লাস মডেলের জন্য বেস স্টোরেজ বিকল্প ১২৮ জিবি -তে এবং প্রো ভ্যারিয়েন্ট দুটির ক্ষেত্রে বেস স্টোরেজ ২৫৬ জিবি -তে আপগ্রেড করা হতে পারে।

ক্যামেরা আপগ্রেড :

অ্যাপল আইফোন ১৬ সিরিজের ক্যামেরা আরও আকর্ষণীয় হবে। এতে ভাল জুমিং ক্যাপাসিটি, উন্নত লো-লাইট কর্মক্ষমতা, এবং স্প্যাশিয়াল ভিডিও রেকর্ডিংয়ের মতো ফিচার যুক্ত করা হতে পারে। এক্ষত্রে আইফোন ১৬ সিরিজের ‘প্রো’ মডেল দুটি ট্রিপল রিয়ার ক্যামেরা সিস্টেমের সাথে আসতে পারে। যার মধ্যে – একটি ওয়াইড অ্যাঙ্গেল লেন্স, একটি টেলিফটো লেন্স এবং একটি আল্ট্রা-ওয়াইড অ্যাঙ্গেল লেন্স থাকবে। টেলিফটো লেন্সটি ১০এক্স অপটিক্যাল জুম এবং ১০০এক্স ডিজিটাল জুম অফার করতে পারে। আল্ট্রা-ওয়াইড অ্যাঙ্গেল লেন্সে হয়তো অটোফোকাস এবং ম্যাক্রো বৈশিষ্ট্য সাপোর্ট করবে।

অন্যদিকে ‘নন-প্রো’ মডেল দুটিতে – একটি ওয়াইড অ্যাঙ্গেল লেন্স এবং একটি আল্ট্রা-ওয়াইড অ্যাঙ্গেল লেন্স সহ ডুয়াল রিয়ার ক্যামেরা সেটআপ বিদ্যমান থাকতে পারে। এক্ষেত্রে এই আল্ট্রা-ওয়াইড অ্যাঙ্গেল লেন্সও প্রো মডেলের মতো অটোফোকাস এবং ম্যাক্রো মোড সাপোর্ট করবে। সিরিজের চারটি মডেলেই ১২-মেগাপিক্সেলের সেলফি ক্যামেরা দেওয়া হবে, যা নতুন ফেস আইডি ২.৯ ফিচারের সাপোর্ট করবে। এই ফিচার দ্রুত এবং আরও যথাযথ ভাবে ফেস রিকোগনিজেশন করতে সক্ষম। এমনকি কম আলো বা মাস্ক পড়া থাকলেও এই ফিচার কাজ করবে।

স্প্যাশিয়াল ভিডিও রেকর্ডিং ফিচার :

আগেই বলেছি আইফোন ১৬ সিরিজ স্প্যাশিয়াল ভিডিও রেকর্ডিং ফিচার সাপোর্ট করবে। এই ফিচার ব্যবহারকারীদের ৩ডি ভিডিও ক্যাপচার করতে দেবে, যা সংস্থার নিজস্ব ভিশন প্রো হেডসেট নামের রিয়েলিটি ডিভাইসে দেখা যাবে। স্প্যাশিয়াল ভিডিও রেকর্ডিং উল্লম্বভাবে সারিবদ্ধ রিয়ার ক্যামেরা ব্যবহার করবে, যা আরও ভাল ডেপ্থ সেন্সিং এবং পোর্ট্রেট মোড এফেক্ট এনাবল করবে। এই ফিচার সিরিজের চারটি মডেলের জন্যই নিয়ে আসা হবে। তবে ‘প্রো’ ভ্যারিয়েন্টগুলি অধিক রেজোলিউশন এবং ফ্রেম রেট বিকল্প পেতে পারে।

নতুন বাটনের সাথে পরিবর্তিত ডিজাইন :

১৫তম প্রজন্মের আইফোন সিরিজের ‘প্রো’ মডেলগুলির সাথে প্রথমবার অ্যাপল অ্যাকশন বাটন নামের একটি ফিজিক্যাল বাটন নিয়ে আসে। যা এখন আইফোন ১৬ সিরিজের প্রত্যেকটি ভ্যারিয়েন্টেই উপস্থিত থাকবে বলে জানা যাচ্ছে। অ্যাকশন বাটন হল একটি কাস্টমাইজযোগ্য বাটন, যা বিভিন্ন অ্যাপ চালু করতে, সেটিংস নিয়ন্ত্রণ করতে, স্ক্রিনশট নেওয়া এবং সিরি সক্রিয় করতে ব্যবহার করা যাবে। আইফোন ১৬ সিরিজে নতুন ‘ক্যাপচার বাটন’ অন্তর্ভুক্ত করার কথাও শোনা যাচ্ছে, যা ডিভাইসের ডান দিকে অবস্থিত পাওয়ার বাটনের ঠিক নীচেই বিদ্যমান থাকবে। ক্যাপচার বাটন দিয়ে – একবার ট্যাপেই ভিডিও রেকর্ডিং শুরু অথবা বন্ধ করা যাবে। আবার এই বাটনে লং-প্রেস করে থাকলে স্লো-মোশন বা টাইম-ল্যাপস ভিডিও রেকর্ড করা সম্ভব হবে বলেও জানা যাচ্ছে।

ওয়্যারলেস চার্জিং :

অ্যাপল আইফোন ৬ লাইনআপে নয়া স্ট্যাকড ব্যাটারি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হতে পারে, যা ডিভাইসগুলির শক্তি বাড়াবে এবং দীর্ঘায়ু নিশ্চিত করবে। এই নতুন ব্যাটারি, ওয়্যার এবং ওয়্যারলেস উভয় অবস্থাতেই ফাস্ট চার্জ হবে। প্রসঙ্গত, হালফিলে আইফোন ১৬ প্রো মডেলে ব্যবহার করা হবে দাবি করে একটি ব্যাটারির ছবি অনলাইনে শেয়ার করা হয়েছিল। এই ব্যাটারি, আইফোনে ব্যবহৃত তথাকথিত ব্যাটারির থেকে ভিন্ন আকৃতির এবং পরিবর্তিত প্লাগ সহ আসবে। এছাড়া ব্যাটারির গায়ে ৩,৩৫৫এমএএইচ রেটিং দেখা গেছে৷

Apple iPhone 16 সিরিজের সম্ভাব্য দাম ও লঞ্চের তারিখ :

আপকামিং আইফোন সিরিজ চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে মুক্তি পাবে। যদিও নির্দিষ্ট লঞ্চের তারিখ অজানা। দামের নিরিখে, iPhone 16 মডেলেগুলি পূর্বসূরি iPhone 15 সিরিজের ন্যায় এক সমান বিক্রয় মূল্যের সাথে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জানিয়ে রাখি, ২০২৩ সালের ১২ই সেপ্টম্বর ভারতে স্ট্যান্ডার্ড iPhone 15 মডেলটি ৭৯,৯৯৯ টাকা প্রারম্ভিক মূল্যের সাথে লঞ্চ হয়েছিল। এছাড়া এদেশে iPhone 15 Plus, iPhone 15 Pro এবং iPhone 15 Pro Max মডেলের দাম শুরু হচ্ছে ৮৯,৯০০ টাকা, ১,৩৪,৯০০ টাকা এবং ১,৫৯,৯০০ টাকা থেকে।