6G in India: ২০৩০ সালের মধ্যে 5G এর চেয়ে ১০ গুণ দ্রুত ইন্টারনেট ভারতে

দেশের বেশকিছু অঞ্চলে এখনও 5G নেটওয়ার্ক উপলব্ধ নয়। তার মধ্যেই 6G নিয়ে জোর প্রস্তুতি শুরু করল কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রীয় যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী পেম্মাসানি চন্দ্র শেখর সম্প্রতি জানিয়েছেন, টেলিকম ইনোভেশনকে এগিয়ে নিয়ে যেতে মোট ১০৪টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে। এর জন্য টেলিকম টেকনোলজি ডেভেলপমেন্ট ফান্ড বা টিটিডিএফ থেকে প্রায় ২৭১ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হচ্ছে। আর এই বিপুল পরিমাণ অর্থ মূলত গবেষণা প্রতিষ্ঠান, স্টার্টআপ এবং টেলিকম ইন্ডাস্ট্রির বিভিন্ন সংস্থাকে দেওয়া হবে, যারা নেক্সট জেনারেশন কমিউনিকেশন টেকনোলজি নিয়ে কাজ করছে।
পেম্মাসানি চন্দ্র শেখর আরও বলেছেন, সরকারের লক্ষ্য ভবিষ্যতের টেলিকম প্রযুক্তিতে ভারত যেন নেতৃত্ব দেয়। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই প্রকাশ করা হয়েছে ‘ভারত 6G ভিশন ডকুমেন্ট’। সেখানে বিস্তারিতভাবে বলা হয়েছে, কীভাবে দেশে ৬জি পরিষেবা তৈরি ও চালু করা হবে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে গবেষণা ও উন্নয়নে।
পাশাপাশি নতুন ইনোভেশন হাব তৈরির কথাও উল্লেখ রয়েছে। লক্ষ্য হচ্ছে দেশীয় প্রযুক্তিকে শক্তিশালী করা, যাতে বড় আন্তর্জাতিক টেলিকম পরিষেবা প্রদানকারীদের ওপর নির্ভর করতে না হয়।
প্রসঙ্গত, 6G প্রযুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল স্পেকট্রাম রোডম্যাপ। এরজন্য সরকার তিনটি সময়সীমা নির্ধারণ করেছে। প্রথম ধাপ ২০২৫ থেকে ২০২৬, দ্বিতীয় ধাপ ২০২৭ থেকে ২০৩০ এবং শেষ ধাপ ২০৩১ থেকে ২০৩৫ পর্যন্ত। এই রোডম্যাপ গবেষক ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের ধাপে ধাপে নতুন প্রযুক্তি পরীক্ষা এবং উন্নত করতে সাহায্য করবে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেসে বক্তব্য রাখতে গিয়ে যোগাযোগমন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া জানিয়েছিলেন, 6G প্রযুক্তির দৌড়ে ভারত দ্রুত এগোচ্ছে। লক্ষ্য হল বিশ্বের প্রথম কয়েকটি দেশের মধ্যে থাকা। এর আগেই ইন্ডিয়া মোবাইল কংগ্রেসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২০৩০ সালের মধ্যে 6G চালুর লক্ষ্য স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন।
জানিয়ে রাখি, 6G নেটওয়ার্ক 5G নেটওয়ার্কের তুলনায় প্রায় ১০ গুণ দ্রুত ইন্টারনেট স্পিড দিতে পারে। অর্থাৎ শুধু দ্রুত ডাউনলোড নয়, বরং সম্পূর্ণ নতুন ধরনের প্রযুক্তি বাস্তবে দেখা যেতে পারে। রিয়েল টাইম হলোগ্রাম, আরও স্মার্ট শহর, স্বয়ংচালিত গাড়ি, উন্নত এআই নেটওয়ার্ক এবং আল্ট্রা ফাস্ট ক্লাউড কম্পিউটিং, সবকিছুই অনেক সহজ হয়ে যেতে পারে।

