ভারতীয়রা প্রতিদিন কতক্ষণ অনলাইনে সময় কাটাচ্ছে? নতুন রিপোর্টে চক্ষু কপালে ওঠার জোগাড়

how-indians-are-spending-time-online-10-hours-ready-to-buy-5g-phones
ভারতীয়রা এখন কতক্ষণ তাদের স্মার্টফোন ব্যবহার করছে

আজকাল এই কর্মব্যস্ততার যুগে বিশ্বব্যাপী অধিকাংশ মানুষেরই প্রিয় বন্ধু হয়ে উঠেছে স্মার্টফোন। আর সাম্প্রতিক কোভিড পরিস্থিতি স্মার্টফোনের ব্যবহারকে আরও বহুল পরিমাণে বাড়িয়ে দিয়েছে। ভারতীয়রা এখন কীভাবে তাদের স্মার্টফোন ব্যবহার করছে এবং সেই ব্যবহারের মাত্রা কীভাবে দিন-কে-দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, সে সম্পর্কে সম্প্রতি অ্যানুয়াল এরিকসন কনজিউমারল্যাব (Ericsson ConsumerLab) রিপোর্টে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। দ্য ফিউচার অফ আরবান রিয়েলিটি (The Future of Urban Reality) শিরোনামের এরিকসন কনজিউমারল্যাবের রিপোর্টে ভারতে ১৫ থেকে ৬৯ বছর বয়সী স্মার্টফোন এবং ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ডেটা এবং অন্তর্দৃষ্টি (insights) ধরা পড়েছে এবং এও দেখা গেছে যে, বর্তমানে অনলাইনে ব্যয় করা গড় সময় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু তাই নয়, অধিকাংশ ভারতীয় এই বছর একটি 5G সাপোর্টেড স্মার্টফোন কিনতে প্রস্তুত বলেও জানা গেছে। আসুন এই রিপোর্টে উল্লিখিত কয়েকটি মূল বিষয়ের ওপর চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক।

• এরিকসন কনজিউমারল্যাবের রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, ভারতীয়রা এখন প্রতিদিন গড়ে ৩.৪ ঘন্টা অনলাইনে ব্যয় করে। শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাস এবং বিভিন্ন অফিস কর্মীদের ওয়ার্ক ফ্রম হোমের ক্ষেত্রে প্রতিদিন অতিরিক্ত তিন ঘন্টা পর্যন্ত সময় অনলাইনে ব্যয় হয়। খুব সোজাভাবে বললে, একটি স্মার্টফোন প্রতিদিন অন্ততপক্ষে ৫ ঘন্টা ২৪ মিনিট ব্যবহৃত হয়।

• প্রায় ৪৬% ব্যবহারকারী মহামারীর সময় ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্মগুলিতে প্রচুর সময় ব্যয় করেছিলেন। সাধারণ ওয়েব ব্রাউজিং (দিনে প্রায় ৮৯ মিনিট) এবং শর্ট বা দীর্ঘ সময়ের ভিডিও কনটেন্ট (দিনে প্রায় ৯২ মিনিট) দেখার ক্ষেত্রে অনেকটা সময় বরাদ্দ ছিল। দেখা গেছে যে, অনলাইনে ব্যয় করা মোট সময়ের মধ্যে প্রায় ১০% ভয়েস কলের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে।

• এরিকসন কনজিউমারল্যাবের রিপোর্ট থেকে জানা গেছে, গ্রাহকরা কোভিড পরবর্তী স্বাভাবিক সময়ে প্রবেশকালে প্রতি সপ্তাহে অনলাইনে ১০ ঘন্টা সময়ের পাশাপাশি তাদের দৈনিক অনলাইন কার্যক্রমে আরও ২.৫ টি সার্ভিস অ্যাড করবে। বিশ্বব্যাপী ৬৪ শতাংশ গ্রাহক বিশ্বাস করেন যে, ২০২৫ সালের মধ্যে তাদের দেশে স্ট্রেস লেভেল এই সময়ের তুলনায় অনেক বেশি হবে।

• প্রায় ৫২% ইউজার PC বা ল্যাপটপের তুলনায় স্মার্টফোনকে ইন্টারনেট অ্যাক্সেস করার জন্য উপযুক্ত ডিভাইস বলে মনে করে। কারণ, বিনা কোনো ঝঞ্ঝাটে স্মার্টফোনের সাহায্যে পুরো দুনিয়ার খবর হাতের মুঠোর মধ্যে নিয়ে আসা যায়। আর তাই সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, প্রতি ৫ জন স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর মধ্যে ৪ জন ২০২১ এবং তার পরে একটি 5G সাপোর্টেড স্মার্টফোন কিনতে আগ্রহী।

• Airtel, Reliance Jio এবং Vi-এর মতো মোবাইল পরিষেবা সরবরাহকারীদের প্রতিও ইউজারদের একটি আসক্তি রয়েছে, যা তাদের স্মার্টফোন ব্যবহারের অন্যতম প্রধান কারণ। প্রতি ১০ জন স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর মধ্যে ৭ জন বিশ্বাস করেন যে, প্রিপেড বা পোস্টপেড কানেকশনের জন্য তারা যে সার্ভিস প্রোভাইডারকে ব্যবহার করেন তারাই মার্কেট লিডার। এছাড়াও, এরিকসন কনজিউমারল্যাব রিপোর্টে দেখা গেছে, ব্যবহারকারীদের ৫৮% এরও বেশি বিশ্বাস করে যে তাদের নির্বাচিত মোবাইল সার্ভিস প্রোভাইডারই 5G সার্ভিস প্রদানের ক্ষেত্রে মার্কেট লিডার হবে।

• কোভিড পরিস্থিতিতে অনলাইন কেনাকাটার পরিমাণ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে এই কারণে বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোন ব্যবহারের পরিমাণ যে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে সেকথা বলাই বাহুল্য। প্যানডেমিকের আগে অনলাইন ক্রেতার সংখ্যা ছিল প্রায় ৩৪ শতাংশ, যা অতিমারীর সময় বৃদ্ধি পেয়ে ৫৩%-এ পৌঁছায়। ভবিষ্যতে এই সংখ্যাটি আরও বাড়বে বলেও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

হোয়াটসঅ্যাপে খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন

টেকগাপের মেম্বাররা ও সদ্য যোগ দেওয়া লেখকরা এই প্রোফাইলের মাধ্যমে টেকনোলজির সমস্ত রকম খুঁটিনাটি আপনাদের সামনে আনে।